ঘোরাক্ষত্রধারণ সোত্র পাঠান

শ্রাবণ মাস – শ্রবণভক্তির পবিত্র মাস


শ্রাবণ মাস হল শ্রবণভক্তির মাস। এই মাসে যতটা সম্ভব শ্রবণ, পাঠ এবং পূজা করার জন্য সদ্‌গুরু শ্রী অনিরুদ্ধ বাপু ভক্তদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। বাপু তাঁর উপদেশ, বক্তৃতা এবং লেখনীতে বারবার নামস্মরণ, মন্ত্র-স্তোত্র জপ, আধ্যাত্মিক গ্রন্থ পাঠ এবং সম্মিলিত উপাসনা– এই সমস্ত কিছুর গুরুত্ব স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে থাকেন।


২০১১ সালের ২৮ জুলাই তারিখে এক ভাষণে শ্রী অনিরুদ্ধ বাপু "শ্রাবণ মাসে ঘোরকষ্টোদ্ধরণ স্তোত্র পাঠের গুরুত্ব" নিয়ে বিস্তারিতভাবে বলেছিলেন। তাঁর কথার সারাংশ এইরূপ—


“সদ্‌গুরুতত্ত্ব আমাদের যতটা ভালোবাসে, ততটা কেউই পারে না এবং কখনো পারবেও না। মানুষের ভালোবাসা যত গভীর হোক না কেন, তা শেষমেশ সীমাবদ্ধই থেকে যায়। কেবলমাত্র ঈশ্বর-ই একমাত্র অসীম ও অমর্যাদিত।


এই সদ্‌গুরুতত্ত্ব কখনো বিভক্ত বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। এটি নির্গুণ, নিরাকার—তবুও পুরোপুরি চৈতন্যময়।


ঘোরকষ্টোদ্ধরণ স্তোত্র হল স্বয়ং শ্রীগুরু দত্তাত্রেয়-এর স্তোত্র, যার রচয়িতা হলেন শ্রীবাসুদেবানন্দ সরস্বতী স্বামী মহারাজ।


এই স্তোত্রটি মাত্র পাঁচটি স্তবকে গঠিত, যাতে সহজেই ১০৮ বার পাঠ করা যায়। এই অসাধারণ ও শক্তিশালী স্তোত্রের পাঠ আমরা শ্রাবণ মাসে করি।”


এই বক্তব্য থেকে আমরা বুঝতে পারি যে এই স্তোত্রটি নিত্য পাঠ করা উচিতই, কিন্তু শ্রাবণ মাসে সম্মিলিতভাবে ১০৮ বার পাঠ করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই পাঠ ভক্তদের বহু গুণে ফলদায়ক হয়।


সদ্‌গুরুর নির্দেশে, অসংখ্য ভক্ত পুরো মাসজুড়ে সম্মিলিত স্তোত্র পাঠে আন্তরিকভাবে অংশ নেন। বাপু তাঁর "সত্যপ্রবেশ" শৃঙ্খলে “যজ্ঞেন-দানেন-তপসা” বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন, যার আলোকে ভক্তরা পাঠের পাশাপাশি স্বেচ্ছায় অন্নপূর্ণা প্রসাদ যোজনার জন্য শস্য বা অন্য দ্রব্যাদি দান করে থাকেন।


এই পাঠ চলাকালে, যারা ইচ্ছুক, তারা নির্দিষ্ট লিঙ্কে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমেও অনুদান প্রদান করতে পারেন।


ঘোরকষ্টোদ্ধরণ স্তোত্র: এক ইতিহাস


এই ঘোরকষ্টোদ্ধরণ স্তোত্র নিয়ে একটি পবিত্র ও গভীর বিশ্বাসের কাহিনি প্রচলিত রয়েছে—


শক ১৮৩৩ অর্থাৎ খ্রিস্টাব্দ ১৯১১ সালে, শ্রীবাসুদেবানন্দ সরস্বতী স্বামী মহারাজ তাঁর একবিংশ চাতুর্মাস পালন করেন কুরুগড্ডি নামক স্থানে।


সেই সময় এক ভক্ত গৃহস্থ, যিনি স্বামীর প্রতি অগাধ ভক্তি রাখতেন, সন্তানের প্রাপ্তি ও ঋণমুক্তির প্রার্থনা নিয়ে তাঁর দর্শনে আসেন।

মহারাজের কৃপায় তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান লাভ করেন এবং তাঁর ঋণও মুক্ত হয়।


এই আশ্চর্য ফল লাভের পর সেই গৃহস্থ মহারাজকে অনুরোধ করেন—


“যাতে আমাদের মতো অন্য ভক্তদেরও কষ্ট দূর হয়, কলিযুগে যেসব বাধা ও সংকট আসে, সেগুলো থেকে তারা মুক্তি পায়, এমন একটি স্তোত্র যদি আপনি রচনা করেন, তবে তা সবার উপকারে আসবে।”


শ্রীবাসুদেবানন্দ স্বামী মহারাজ— যিনি করুণায় পূর্ণ ছিলেন, এই প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে রচনা করেন ঘোরকষ্টোদ্ধরণ স্তোত্র।


ধন্য সেই ভক্ত, ধন্য সেই মহারাজ! আজও পবিত্র দত্তক্ষেত্র নৃসিংহওয়াড়ীতে এই স্তোত্রের নিত্য পাঠ হয়ে থাকে।


আধুনিক যুগে পাঠের আয়োজন


এই স্তোত্রের সম্মিলিত পাঠ প্রতি বছর শ্রী অনিরুদ্ধাজ অনুসন্ধান ট্রাস্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির পক্ষ থেকে শ্রাবণ মাসে আয়োজন করা হয়।


বৃহস্পতিবার বাদে অন্যান্য দিন: সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা এবং সন্ধ্যা ৫:৩০ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পাঠ হয়।

বৃহস্পতিবার: সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পাঠ হয়।

এছাড়াও, একদিন অনলাইনে পাঠ-এর ব্যবস্থাও করা হয়।

স্তোত্রের ফল ও গুরুত্ব


স্তোত্রটির শেষ স্তবকে বলা হয়েছে:


“শ্লোকপঞ্চকমেতদ্যো লোকমঙ্গলবর্ধনম্। প্রপঠেন্নিয়তো ভকত্যা স শ্রীদত্তপ্রিয়ো ভবেত্॥”


অর্থাৎ— এই স্তোত্র জগতের মঙ্গল বৃদ্ধি করে এবং যে নিষ্ঠাভরে পাঠ করেন, তিনি হন শ্রীগুরু দত্তাত্রেয়ের প্রিয়।

শ্রীগুরুর প্রিয় হওয়া – এটাই এক ভক্তের কাছে সর্বোচ্চ প্রাপ্তি।


এই স্তোত্র প্রেম, সদবুদ্ধি, সৎসঙ্গ এবং ঈশ্বরভক্তি বাড়িয়ে তোলে। এটি মানুষের পার্থিব ও আধ্যাত্মিক ইচ্ছাগুলিকে পূর্ণ করে তোলে।


এই স্তোত্রে, আমরা ভগবানের কাছে কাঙ্ক্ষা করি—


“ঘোর কষ্ট থেকে আমাদের উদ্ধার করো।”


AADM: স্তোত্রের বাস্তব প্রয়োগ


সদ্‌গুরু শ্রী অনিরুদ্ধ বাপু শুধু এই স্তোত্রের গুরুত্ব বলেননি, বরং এর বাস্তব রূপায়ণ করেছেন।


তাঁর প্রতিষ্ঠিত “AADM” অর্থাৎ “অনিরুদ্ধ’স অ্যাকাডেমি অফ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট” আসলে এই ঘোরকষ্টোদ্ধরণ স্তোত্রেরই একটি কার্যকর, বাস্তব রূপ বা প্র্যাকটিক্যাল দৃষ্টান্ত।


জয় শ্রী গুরুদত্ত। জয় সদ্‌গুরু শ্রী অনিরুদ্ধ বাপু।

Comments