রামরক্ষার প্রকৃত বিনিয়োগ ( ব্যবহার) - রামের জন্য করা এক সাধনা।
সদগুরু শ্রী অনিরুদ্ধ বাপু রামরক্ষা স্তোত্রমন্ত্র মালার ষষ্ঠ প্রবচনে বলছেন যে, আমরা কেন রামরক্ষা স্তোত্রমন্ত্রটি পাঠ করব, তা বলার শ্লোকটি হলো - 'শ্রীরামচন্দ্রপ্রীত্যর্থেই জপে বিনিয়োগ:।' আমার এই পাঠের বিনিয়োগ অর্থাৎ ব্যবহার যেন আমার এই রামচন্দ্রের জন্যই হয়, এই রামচন্দ্রের প্রীতি (ভালোবাসা) লাভ করার জন্যই হয়, এই প্রার্থনা করা শ্লোক এটি। রামরক্ষা পাঠ স্ব-স্বার্থের জন্য নয়, বরং রামের জন্য এবং রামের প্রেমের জন্য করা সাধনা।
ভগবানের জন্য কৃত কর্ম ও তার অনন্ত ফল।
বাপু উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, যেমন বীজ বুনলে অনেক গুণ বেশি ফসল পাওয়া যায়, তেমনই নিজের লাভের ত্যাগ করে ঈশ্বরের জন্য করা কাজ অনন্ত ফল দেয়। শুধু পাওয়া সমস্ত শস্য সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার না করে, তার থেকে দুই মুঠো 'ধান্য' (শস্য) আলাদা করে রেখে তা সঠিক পদ্ধতিতে বুনলে তবেই প্রচুর প্রাপ্তি ঘটে। এই কারণেই, যখন আমি রামের জন্য রামরক্ষা বলি, তখনই রামচন্দ্র স্থির করেন যে তিনি আমাকে কী দেবেন, কীভাবে দেবেন, কখন দেবেন এবং কী দেবেন না। কারণ তিনি সবকিছু জানেন।
ঈশ্বরীয় কৃপার ব্যাঙ্ক ও জীবনের প্রকৃত সঞ্চয়।
যদিও আমার কাছে অনেক 'ব্যাঙ্কস'-এর 'ডেবিট কার্ডস' থাকবে, কিন্তু 'ব্যাঙ্কে' যদি টাকাই না থাকে, তবে সেই 'কার্ডস' আমার কোনো কাজের নয়। আমি ভালো স্বাস্থ্য পেয়েছি, শিক্ষা পেয়েছি, ভালো বাড়ি আছে - এই বিষয়গুলো হলো এই 'কার্ডস' এবং 'ব্যাঙ্কে' আমার সঞ্চয় অর্থাৎ আমার উপর পরমেশ্বরের থাকা কৃপা। এই পরমেশ্বরের কৃপা হলো 'অক্ষয় সঞ্চয়' এবং সেটা থাকলে তবেই আমি আমার 'কার্ডস' ব্যবহার করতে পারব। এই পরমেশ্বরের কৃপাই হলো সেই রামের আমার প্রতি থাকা প্রেম। রামের প্রেমই হলো জীবনের আসল সম্পত্তি।
অকারণ করুণা , ভক্তির গঙ্গাজলী ( মূলধন) ও প্রারব্ধ জনিত ঋণ।
সদগুরু বাপু বললেন যে, পরমেশ্বরের 'অকারণ কারুণ্য' (অকারণ করুণা) প্রত্যেকের জীবনে জন্ম থেকেই থাকে, কিন্তু আমরা তা কতটা অপচয় করি বা কতটা সঞ্চয় করি এবং নতুন সম্পত্তি কতটা লাভ করি, তা আমাদের উপর নির্ভর করে। ধনসম্পত্তি ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন, কিন্তু তার ব্যবহার, 'চলনব্যবস্থা' (মুদ্রা ব্যবস্থা) এবং নিয়ম মানব স্থির করেছে। আমরা পাওয়া সম্পত্তি অপচয় করি এবং নতুন করে অর্জন করি না, ফলে ভক্তির 'ব্যাঙ্ক' খালি হয়ে যায় এবং উল্টে আমাদের উপর প্রারব্ধের ঋণ চাপে। বিপদ এলে আমরা ঈশ্বরের ভক্তি শুরু করি এবং সঙ্গে সঙ্গে ফল পাওয়ার আশা করি, কিন্তু ঋণের কারণে আগে যে 'ডেফিসিট' অর্থাৎ ঘাটতি হয়েছে, তা পূরণ করা আবশ্যক। যখন আমি আমার স্বার্থের জন্য 'কাম্যভক্তি' (ফললাভের জন্য ভক্তি) করি, তখন তার ফল সীমিত হয় এবং 'ডেফিসিট' পূরণ হতে সময় লাগে। কিন্তু যখন আমি ভক্তি থেকে দূরে সরে গেছি এই জ্ঞান উৎপন্ন হয়ে তার কৃপা লাভ করার জন্য ভক্তি করি, তখন আমার 'ব্যাঙ্কের' 'গঙ্গাজলী' (মূলধন) দ্রুত বৃদ্ধি হতে শুরু করে।
আসল ভক্তি - ঈশ্বরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে তোলার সাধনা।
আসল ভক্তি কেবল লাভের জন্য না হয়ে, নিজেদের ভুল স্বীকার করে, ঈশ্বরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ার জন্য হওয়া উচিত। বুধকৌশিক ঋষি রামরক্ষার উদ্দেশ্য কেবল শ্রীরামচন্দ্রের প্রীতির জন্য বলেছেন। রামরক্ষার শুরুতে "অথ ধ্যানম্" অর্থাৎ রামচন্দ্রের সগুণ, সাকার রূপকে চোখের সামনে রেখে, ইনি আমার পিতা এবং এই বিশ্বের একমাত্র 'ত্রাতা' (উদ্ধারকর্তা) এই ভাবনায়, প্রেম ও একাগ্রতার সাথে ধ্যান করা আবশ্যক।
' আজানুবাহু' রাম ও মানুষের শরীরের রচনা।
বুধকৌশিক ঋষি রামরক্ষায় 'আজানুবাহুম্' অর্থাৎ যার হাত হাঁটু পর্যন্ত লম্বা, এমন শ্রীরামের বর্ণনা করেছেন। বাপু বলেন যে মানব অন্যান্য প্রাণীদের থেকে আলাদা। প্রথমে মানব চার পায়ে হামাগুড়ি দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অন্যান্য প্রাণীদের মতো ছিল। কিন্তু, মানব যখন সোজা হয়ে দাঁড়ানো পছন্দ করল এবং তা তার কাছে বেশি সুবিধাজনক মনে হলো, তখন হাতের কাজ ও হাতের কাজের দিক পরিবর্তিত হওয়ায় হাতের দৈর্ঘ্য পায়ের দৈর্ঘ্যের চেয়ে কমে গেল। মানব হলো দুটি হাত ও দুটি পা যুক্ত এবং সোজা হয়ে দাঁড়ানো (ইরেক্ট) এক প্রাণী। অর্থাৎ তার পা এবং হাতের কাজ সম্পূর্ণরূপে আলাদা হয়ে গেছে। দুই হাতের কাজ দুটি পা করতে পারে না, দুটি পায়ের কাজ দুটি হাত করতে পারবে না। শরীর গঠনের এই বৈশিষ্ট্যগুলি মানবকে বিশেষ করে তোলে।
মানুষের শক্তিকেন্দ্রগুলির অদ্ভুত রচনা।
মানব শরীরে প্রধান সাতটি চক্র সহ ১০৮ 'শক্তিকেন্দ্র' (শক্তি কেন্দ্র) রয়েছে, যার মধ্যে ২৭টি নাভির নীচে এবং ৮১টি নাভির উপরে রয়েছে। যে কোনো 'শক্তিকেন্দ্র' যেমন স্বাধীনভাবে কাজ করে, তেমনই অন্যদের সাথেও কাজ করে এবং একটির কাজ শুরু থাকা অবস্থায় যদি অন্যটিরও কাজ শুরু থাকে, তখন এই দুটি 'শক্তিকেন্দ্রও' একে অপরের কাজে কোথাও বিরোধিতা করে না এমন এক অনন্য উপায়ে এদের গঠন করা হয়। দুটি হাতে মোট চোদ্দোটি এবং দুটি পায়ে মোট চোদ্দোটি এমন নির্দিষ্ট 'শক্তিকেন্দ্র' রয়েছে। পায়ে থাকা যে চোদ্দোটি 'শক্তি কেন্দ্র', সেগুলি হাঁটু থেকে নীচে রয়েছে। হাঁটু থেকে উরু পর্যন্ত একটিও 'শক্তি কেন্দ্র' নেই এবং হাতের 'শক্তি কেন্দ্র' গুলি কিন্তু কাঁধ থেকে আঙুল পর্যন্ত সব জায়গায় রয়েছে। হাতের দৈর্ঘ্য যেন সর্বদা হাঁটু পর্যন্তই যায়, তার ওপারে না যায়, তার যত্ন নেওয়া হয়েছে এবং সেই কারণে হাঁটার সময় হওয়া চলাচলে এই 'শক্তিকেন্দ্রের' একে অপরের সাথে হওয়া ঘর্ষণ, সেই 'ভাইব্রেশনস' (কম্পন)-এর ঘর্ষণ এড়ানো গেছে।
বিচার, ভক্তি ও 'শক্তিকেন্দ্রের' কাজ।
ভালো চিন্তা করলে বা ভক্তি করলে ভিন্ন ধরনের 'শক্তিকেন্দ্র' জাগ্রত হয় এবং খারাপ বা ভুল চিন্তা করলে ভিন্ন ধরনের 'শক্তিকেন্দ্র' জাগ্রত হয়। সাধারণ মানুষ জানতে পারে না যে সেগুলি ঠিক কোথায় আছে, কীভাবে কাজ করে। কিন্তু পরমাত্মার 'অকারণ কারুণ্য'-এর কারণে এই সমস্ত গঠন সংঘর্ষমুক্ত।
পরমাত্মা যখন সগুণ সাকার রূপ ধারণ করেন, তখন তাঁর মধ্যেও ঠিক তেমনই 'শক্তি কেন্দ্র' থাকে, তাদের গঠন আলাদা কিছু নয়। তবে তাঁর শরীরের সমস্ত 'শক্তিকেন্দ্র' একই সময়ে সম্পূর্ণ জাগ্রত ও সমতুল্য অবস্থায় থাকে এবং তাঁর ইচ্ছানুসারে এই 'শক্তিকেন্দ্র' গুলি চলে। এই কারণেই এই রামকে কিছু নিতে হয় না, কেবল দিতেই হয় এবং যত দিলেও সেই রামের কাছে যা আছে তা কখনোই ফুরিয়ে যায় না।
সগুণ-সাকার ও নির্গুণ-নিরাকার - সমান শ্রেষ্ঠত্ব।
সদগুরু অনিরুদ্ধ বাপু আরও বলেন যে পরমাত্মা সগুণ-সাকার দেহ ধারণ করেন, কারণ সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্গুণ-নিরাকার রূপের ধ্যান ও ভক্তি করা সম্ভব নয়। সগুণ-সাকার এবং নির্গুণ-নিরাকার - এই পরমাত্মার উভয় রূপই সমানভাবে শ্রেষ্ঠ। জ্ঞানেশ্বর এবং রামদাস তাঁদের গ্রন্থে 'অদ্বৈত' বললেও, তাঁরা সগুণ সাকার স্বরূপেরই ভক্তি করেছেন।
ভক্তদের সহজে 'স্পন্দন' (ভাইব্রেশন) লাভ হোক, সেই কারণেই পরমাত্মা অবতার গ্রহণ করতে থাকেন। তাঁর শরীরের সমস্ত 'শক্তিকেন্দ্র' জাগ্রত থাকে, তাই তিনি যে পরিমাণে 'স্পন্দন' দিতে চান, সেই পরিমাণে তিনি ভক্তদের কাছে 'প্রতীয়মান' হন। স্বামী সমার্থের মতো মহাপুরুষদের রূপ সম্পর্কে লোকেরা ভৌতিক মাপজোক করে যে তাঁদের হাত হাঁটু পর্যন্ত লম্বা ছিল নাকি তার চেয়ে বেশি লম্বা ছিল। কিন্তু তাঁদের মাপার আমরা কে? তাঁর যখন প্রয়োজন হয়, তখন তিনি তাঁর 'আজানুবাহু', 'সহস্রবাহু' বা 'বিশ্বরূপ'-এর মতো বিভিন্ন স্বরূপ দেখাতে পারেন।
বদ্ধপদ্মাসনস্থং - শব্দার্থ ও আধ্যাত্মিক অর্থ।
বুধকৌশিক ঋষি 'ধ্যায়দাজানুবাহুম্ বদ্ধপদ্মাসনস্থং' বলেছেন। 'আজানুবাহু' মানে হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছানো হাত, এবং 'বদ্ধপদ্মাসন'-এর অর্থ কেবল 'যোগমুদ্রা' নয়, বরং তা 'আজানুবাহু' রূপের সঙ্গে সম্পর্কিত। সংস্কৃতে 'বদ্ধপদ্মাসনস্থং' এই শব্দের অর্থ খুবই আলাদা। অনেক সময় ভণ্ড লোকেরা সংস্কৃত শব্দের নিজেদের সুবিধা মতো অর্থ করে। এটা বোঝানোর জন্য বাপু গুণাধ্যায় নামক এক রাজার গল্প বললেন। এই গল্পের মাধ্যমে তিনি বোঝালেন যে সংস্কৃত শব্দের বিকৃত বা ভুল অর্থ করলে কীভাবে ভুল বোঝাবুঝি এবং কুসংস্কার তৈরি হয়। এই কারণেই 'শ্রীমদ্পুরুষার্থ' লেখার সময় সংস্কৃত বাক্যগঠন অত্যন্ত সুস্পস্ট রাখা হয়েছিল, যাতে কেউ বিকৃত অর্থ না করে।
বদ্ধপদ্মাসনস্থং শব্দটি কেবল যোগের আসন নয়, বরং কমলের উপর বসে থাকা রামের রূপের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই 'আজানুবাহু' হওয়ার কারণে তাঁর শরীরের যে কোনো অংশ হোক না কেন, পায়ের হোক বা হাতের হোক, এতে কোনো পার্থক্য নেই। এর আধ্যাত্মিক অর্থ হলো যে রামের শরীরের প্রতিটি 'শক্তিকেন্দ্র' অন্যান্য সমস্ত 'শক্তিকেন্দ্রের' কাজ করতে পারে।
কমল বা পদ্মফুল - জীবনের বিকাশের প্রতীক।
সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্র কেবল নিজের কাজ করে। কিন্তু রামের প্রতিটি 'শক্তিকেন্দ্র' সমস্ত 'শক্তিকেন্দ্রের' কাজ করতে পারে। এই কারণেই তিনি 'আজানুবাহু'। রাম যদি ভক্তকে তাঁর কৃপা প্রদান করতে চান, তবে তাঁকে ভক্তের দিকে তাকাতেও হয় না। রাম যেখানেই থাকুন, যে অবস্থাতেই বসে থাকুন বা দাঁড়িয়ে থাকুন, তাঁর কৃপা ভক্তের ইচ্ছানুসারে অবশ্যই লাভ হয়।
বুধকৌশিক ঋষি আমাদের রামের ধ্যান করার সময় সমস্ত বন্ধন ভেঙে দিয়েছেন। তিনি বলেন যে ধ্যান করার সময় যদি আমি সম্পূর্ণ রামকে দেখতে না পাই, কেবল তাঁর কান বা নখ বা চুল দেখতে পাই, তবুও তাঁর ধ্যান করা যায়। রামের একটি অঙ্গের ধ্যানেও অখন্ড রামকে অনুভব করা যায়। তাই রামের ধ্যান যেমন আপনার পক্ষে সহজ, সাধ্য হয়, তেমনই করুন। কারণ রামের প্রতিটি 'শক্তিকেন্দ্র' অন্যান্য সব 'শক্তিকেন্দ্রের' কাজ করতে পারে।
রাম 'বদ্ধপদ্মাসনস্থং' অর্থাৎ কমলের উপর বসে আছেন। কমল হলো জীবনের বিকাশের প্রতীক, কাদা থেকে উঠে, লম্বা ডাঁটা উপরে নিয়ে সোজা আকাশের দিকে ফোটে। মানবকে নিজের জীবনও এই কমলের মতো করে তুলতে হবে। যত পাপই হোক, ভুলই হোক, কাদা থেকে উপরে উঠে আসতে হবে এবং ক্রমাগত নিজের বিকাশ ঘটাতে হবে; এবং একবার যখন আমাদের জীবন এই কমলের মতো হয়ে যাবে, তখন এই রাম আমার এই কমলের উপর বসার জন্য 'বদ্ধ' (প্রতিজ্ঞাবদ্ধ)। রাম না ডাকলেও নিজে থেকেই , তিনি সেই কমলের উপর এসে স্থিতিশীল হয়ে যান।
ধ্যানের ফলশ্রুতি - দুর্গুণের বিনাশ।
বুধকৌশিক ঋষি বলেন যে ধ্যান করার সময় ফটোর মধ্যে যদি রাম সিংহাসনে বসেও থাকেন, তবুও মনে করুন যে তিনি আমার জীবনের উপর বসে আছেন। বদ্ধপদ্মাসনস্থং অর্থাৎ রামের আসন , অন্য আর কিছু নয়, তা হলো আমাদের নিজস্ব জীবন। তেমনই আমার হৃদয়ও কমলেরই প্রতীক, এবং সেই হৃদয়েও তিনিই বসে আছেন। এটাই হলো রামের আসল ধ্যান।
সদগুরু শ্রী অনিরুদ্ধ বাপু প্রবচনের শেষে বলেন যে ধ্যানের কারণে আমাদের দোষ, দুর্গুণগুলির নাশ হয় এবং জীবন মধুর , সুন্দর হয়ে ওঠে। যেমন দই ছেঁকে নিলে তার দুর্গন্ধ দূর হয়ে তা থেকে সুন্দর ও সুগন্ধি 'শ্রীখণ্ড' তৈরি হয়, ঠিক তেমনই ভক্তি এবং ধ্যানের কারণে আমাদের দুর্গুণগুলি দূর হয়ে যায়। কপিল মুনি 'কপিল স্তোত্রে' বলেছেন যে মানবের আত্মার মধ্যে যা কিছু খারাপ আছে, তা পুরুষ (অর্থাৎ পরমেশ্বর) এবং প্রকৃতি (অর্থাৎ সেই পরমেশ্বরের ভক্তি)। এদের সংযোগের কারণে সমস্ত দুর্গুণ নষ্ট হয়ে যায়। অন্তঃকরণ শুদ্ধ হয়। এই পুরুষ এবং প্রকৃতির সংযোগ ঘটার জন্য ধ্যানের প্রয়োজন; এবং এই রামরক্ষা স্তোত্রমন্ত্রেই ধ্যান কীভাবে করতে হবে তা বলা হয়েছে।

Comments
Post a Comment