একই সঙ্গে বহু রোগে আক্রান্ত এই বিশ্বাসী নারী তাঁর সদগুরুর প্রতি অটল বিশ্বাসে স্থির থাকেন। সেই বিশ্বাসই তাঁকে শারীরিক ও মানসিক শক্তি জোগায়, আর তাঁর আশ্চর্যজনক সুস্থতায় চিকিৎসকরাও বিস্মিত হয়ে যান।
আমি স্মিতাবীরা বিনায়কসিং কালে, বোরিবলি (পশ্চিম) উপাসনা কেন্দ্র। আমি ইন্ডিয়ান ব্যাংকে কর্মরত। ১৯৯৮ সালের রামনবমীতে প্রথমবার বাপুজির দর্শন লাভ করি এবং সেই দিন থেকেই আমি ও আমার পুরো পরিবার বাপুময় হয়ে উঠি। তখন থেকে আমরা বাপুজির অসংখ্য অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। সদগুরুকৃপা যে এক নিরবচ্ছিন্ন উৎস, তা বারবার অনুভব করেছি।
আমি যে অভিজ্ঞতার কথা এখানে নিচে বলছি, তা আজও প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছি। দেড় বছর আগে আমার থাইরয়েড রোগ ধরা পড়ে। আমার ওজন খুব কমে যাচ্ছিল, কিন্তু দেরিতে বুঝতে পারি যে ওজন কমার কারণ থাইরয়েড। এমনকি আমার পারিবারিক ডাক্তারও থাইরয়েডের সন্দেহ করেন নি, কারণ তখন আমার ভাইরাল জ্বর হয়েছিল। ডাক্তার ভেবেছিলেন ভাইরাল জ্বরে ওষুধ খাওয়ার কারণেই দুর্বলতা এসেছে। কিন্তু হাঁটতে ও কথা বলতেও আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। তখন আমরা সুচিত দাদার কাছে ছুটে যাই। তিনি সঙ্গে সঙ্গে থাইরয়েড পরীক্ষা করতে বলেন। পরীক্ষায় দেখা যায় আমার TSH ফ্যাক্টর অত্যন্ত কম। দাদা আমাকে ওষুধ দিয়ে কোকিলাবেন হাসপাতালে এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ডা. ধীরজ কাপুরের কাছে পাঠান। সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা শুরু হয়।
এরপর হঠাৎ আমার চোখ খুব ফুলে যায় ও লাল হয়ে ওঠে। আমি চোখের ডাক্তারের কাছে যাই। তিনি চোখের সিটি স্ক্যান করতে বলেন। রিপোর্টে দেখা যায়, আমার অ্যান্টিবডি সেলগুলি আমার থাইরয়েডের সঙ্গে লড়াই করছে—এই সমস্যারই প্রভাব ছিল তা। এর জন্যও চিকিৎসা শুরু হয়।
একদিন হঠাৎ করে আমার দুই চোখে দ্বৈত দৃষ্টি শুরু হয়। আমার ডিপ্লোপিয়া হয়েছে বলে জানা যায়। হায় রে! চোখ তো আমাদের প্রধান ইন্দ্রিয়। আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। অসংখ্য প্রশ্ন আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু আমি নিরন্তর আমার সদগুরু বাপুজিকেই ডাকছিলাম। ডাক্তারের কাছে জানতে চাইলে, তিনি তাঁর বহু বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্পষ্ট বলেন—এই রোগ ভালো হয় না। তখন আমি তাঁকে বলি,
ডাক্তার, আমার আমার সদগুরুর ওপর ১০৮% বিশ্বাস আছে। তিনি অবশ্যই আমাকে সুস্থ করবেন, কারণ তিনি আমাদের বিশ্বাসীদের যে আশ্বাস দিয়েছেন—তুমি আর আমি একসঙ্গে হলে এই পৃথিবীতে অসম্ভব বলে কিছু নেই। আমার চিকিৎসার চেষ্টা ও আমার সদগুরুর কৃপায় একদিন আমি অবশ্যই সুস্থ হব।
আমাকে ১ গ্রাম মাত্রার ২১টি স্টেরয়েড ইনজেকশন এবং পরবর্তী চার মাসের জন্য স্টেরয়েড ট্যাবলেট দেওয়া হয়। স্যালাইনের মাধ্যমে ইনজেকশন দেওয়া হত। ইনজেকশনের পর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য আমাকে হাসপাতালে রাখা হত। স্টেরয়েডে অনেকের শরীরে ফুসকুড়ি, মাথা ঘোরা বা অন্য সমস্যা দেখা দেয়। গর্বের সঙ্গে বলতে পারি—আমার কোনো সমস্যাই হয়নি। হাসপাতালের কর্মীরাও বিস্ময়ে বলতেন,
স্মিতা, এতগুলো ২১টা ইনজেকশন নিয়েও তোমার কিছুই হয় না কেন?
আমি সবাইকে বলতাম,
এটা কেবল আমার অনিরুদ্ধ বাপুজির কৃপা।
সপ্তাহে টানা তিন দিন আমাকে স্টেরয়েড দেওয়া হত। হাতেই সুঁই লাগানো অবস্থায় আমি ব্যাংকে যেতাম। এই অসীম আত্মবিশ্বাস আমি পেয়েছি শুধুমাত্র বাপুজির জন্যই। ধন্য সেই সদগুরু তত্ত্ব, যিনি তাঁর সন্তানদের সময়ে সময়ে যত্ন নেন এবং মনোবল বাড়ান। চোখের এত কষ্ট থাকা সত্ত্বেও বোরিবলি থেকে সান্তাক্রুজ পর্যন্ত আমার যাত্রা নির্বিঘ্নে হতো। চোখের সমস্যার জন্য ব্যাংকের কাজে কখনো কোনো ভুলও হয়নি।
বাপুজির গুণকীর্তন করতে গিয়ে আমি গর্বের সঙ্গে বলি—এমনই আমার বাপুজি, যিনি আমাকে সবসময় সামলে নেন এবং প্রতিটি সঙ্কটে আমার পাশে থাকেন। স্টেরয়েড সাধারণত কিডনি ও লিভারে প্রভাব ফেলে এবং ডায়াবেটিসও হতে পারে। তাই প্রতি ছয় সপ্তাহে আমাকে পরীক্ষা করাতে বলা হত। কিন্তু আমার সব পরীক্ষাই স্বাভাবিক থাকত।
এখানে বাপুজির বাণীর একটি পংক্তি আমার মনে পড়ে—
যে প্রেম নিয়ে আমার সঙ্গে যুক্ত হবে, তার অসম্ভবকে আমি সম্ভব করে দেব।
একজন নামী ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন,
তোমার এই রোগের একমাত্র চিকিৎসা অস্ত্রোপচার, তাও থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে এলে।
কিন্তু সুচিতদাদা আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন,
একদমই ভয় পাওয়ার দরকার নেই, হয়তো অস্ত্রোপচার করতেই হবে না।
গর্বের সঙ্গে বলতে পারি—টানা ছয় মাস বেড়ে যাওয়া থাইরয়েড শ্রীশ্বাসম্ উৎসবে মা চণ্ডিকা অর্থাৎ মহিষাসুরমর্দিনী, বড় মায়ের পূজার পর নিয়ন্ত্রণে আসে। এভাবে বাপুজির কৃপায় থাইরয়েডের উপর নিয়ন্ত্রণ আসে। চোখের সমস্যার মধ্যেও বাপুজির দেওয়া শক্তিতেই আমি শ্রীসাই সচ্চরিত্র পরীক্ষায় অংশ নিই এবং বিশেষ কৃতিত্বও অর্জন করি।
আজ আমি নিশ্চিত—আমার প্রারব্ধের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি দিতে আমার সদগুরু সম্পূর্ণভাবে আমার পাশে আছেন, সে কথা ১০৮% সত্য।
এখানে আদ্যপিপাদার একটি অভঙ্গের কয়েকটি পংক্তি মনে পড়ে যায় --
"প্রারব্ধের বীজ বাপুজির চরণে
সমর্পণ করে ধন্য হওয়া॥"
বাপুজির মতো সদগুরু পেয়েছি আমি ,তাই আমি সত্যিই ধন্য।
অম্বজ্ঞ বাপুরায়া
নাথসম্বিধ্। 🙏

Comments
Post a Comment