সদগুরু অনিরুদ্ধই আমাদের একমাত্র ত্রাণকর্তা ... -- ডঃ রাজশ্রীবীরা দেশমুখ, ভড়ুজ, সাতারা

সদগুরু অনিরুদ্ধই আমাদের একমাত্র ত্রাণকর্তা ...  -- ডঃ রাজশ্রীবীরা দেশমুখ, ভড়ুজ, সাতারা

এই শ্রদ্ধাবান মহিলার স্বামীর গাড়ির এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায়, গাড়ি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে যায়, কিন্তু তার শরীরে একটা আঁচড়ও লাগে না। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, সেদিন বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তিনি উদী লাগাতে ভুলে গিয়েছিলেন, কিন্তু সময়মতো মনে পড়ায় তিনি আবার ফিরে আসেন, উদী লাগান আর তার পরেই বাড়ি থেকে বেরোন।

-----------------------------------------

হরি ওঁ, আমি গত আড়াই বছর ধরে নিয়ম করে ভড়ুজ উপাসনা কেন্দ্রে যাচ্ছি। দৈনন্দিন জীবনে বাপুর অভিজ্ঞতা তো সব সময়ই হতে থাকে। তবে আমার স্বামীর ৭ই জানুয়ারির অভিজ্ঞতাটা আমি সবাইকে বিশেষ করে জানাতে চাই।

আমার স্বামী নিজেও একজন ডাক্তার আর তিনি খটাও-তে প্র্যাকটিস করেন। রবিবার, ৭ই জানুয়ারি সকাল সাড়ে নটায় তিনি রোজকার মতোই ও.পি.ডি.-তে যাওয়ার জন্য বেরোন। ভড়ুজ ছাড়ার পর মাত্র ৫-৭ কিলোমিটার যেতেই রাস্তার কাজ চলছিল। তিনি আমাদের সুইফট ডিজায়ার গাড়িটা চালাচ্ছিলেন। রাস্তার যে অংশে কাজ চলছিল, সেখানে হঠাৎ আমাদের গাড়িটা পিছলে যায়। তিনি ব্রেক কষার অনেক চেষ্টা করেন কিন্তু গাড়ির ভারসাম্য হারিয়ে যায় আর সামনে ঠিক কী হচ্ছে সেটা তিনি বুঝতেই পারেননি। ওনার চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসে, তবে ওনার শুধু এইটুকু মনে পড়ছিল যে গাড়িটা বেশ কয়েকবার উলটে গিয়েছিল আর দুটো মরা গাছের মাঝখান দিয়ে ৮ থেকে ১০ ফুট মতো জায়গা বিমানের মতো প্রচণ্ড বেগে উড়ে চলে গিয়েছিল।

এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটল কিন্তু আমার স্বামীর গায়ে একটা আঁচড়ও লাগেনি। গাড়ির দফারফা হয়ে গিয়েছিল। গাড়িতে যদি কিছু অক্ষত থেকে থাকে তবে তা হলো আমার স্বামীর সিটটা, গাড়ির ভেতরে থাকা বাপুর ফটো আর গণপতির ফটো। গাড়ির সব কাঁচ ভেঙে গিয়েছিল আর গাড়িটা পুরো দুমড়ে গিয়েছিল। স্টিয়ারিং হুইল নিজের জায়গা থেকে সরে গিয়েছিল আর টায়ারও ফেটে গিয়েছিল। বলতে গেলে গাড়িতে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। গাড়ির পেছনের কাঁচ, মানে যেখানে বাপুর জপের স্টিকার লাগানো থাকে, সেখান দিয়ে আমার স্বামী বেরিয়ে আসেন আর ঠিক ওনার সামনেই ওনার পরিচিত একজন ব্যক্তি নিজের গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

যা কিছু ঘটেছিল তা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। এত বড় দুর্ঘটনা থেকে বিন্দুমাত্র চোট না পেয়ে বেরিয়ে আসা আর হঠাৎ করে চেনা মানুষের সামনে আসা ও তার সাহায্য পাওয়া, এ সবই ছিল সেই সদগুরুর কৃপা। বাপু ওনাকে এত মানসিক শক্তি দিয়েছিলেন যে ওই অবস্থাতেও গাড়ির কাগজপত্র গাড়ি থেকে বের করে নেওয়ার মতো জ্ঞান ওনার ছিল। তিনি ওই পরিচিত ব্যক্তির গাড়িতে করে ভডুজে ফিরে আসেন। শুধু সতর্কতার খাতিরে সিটি স্ক্যান, সোনোগ্রাফি আর অন্যান্য পরীক্ষাও করানো হয়। সব রিপোর্ট খুব ভালো আসে। এত কিছু হয়ে গেল অথচ ওনার শরীর থেকে এক ফোঁটা রক্তও বেরোয়নি।

ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পুলিশও অবাক হয়ে গিয়েছিল যে ওই দুটো গাছের মাঝখান দিয়ে গাড়িটা গেল কীভাবে! এটা প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার ছিল। গাড়ির দশা দেখে আসা-যাওয়ার পথে মানুষ এটাই জিজ্ঞেস করছিল যে এত ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গাড়ির লোকগুলো বেঁচে আছে তো? অসম্ভবকে সম্ভব একমাত্র বাপু-ই করতে পারেন। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় আমাদের সবারই উদী লাগানোর অভ্যাস আছে। ঠিক দুর্ঘটনার দিনই আমার স্বামী উদী লাগাতে ভুলে গিয়েছিলেন, কিন্তু আবার চৌকাঠের ভেতরে এসে উদী লাগিয়ে তবেই বাইরে যান। এই উদী-ই ওনাকে বাঁচিয়েছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

এই দুর্ঘটনার ১৫ দিন আগে আমি যখন আমার ও.পি.ডি. থেকে বেরোচ্ছিলাম, তখন পাতার খসখস শব্দ শুনতে পাই। আমি উদী লাগিয়েই বেরিয়েছিলাম। আমার কেবল মনে হলো যে আরে সাপ নাকি! এতটুকু ভাবতেই পুরো রাস্তা জুড়ে থাকা একটা বড় ঢ্যামনা সাপ আমার ঠিক এক ফুট সামনে ফণা তুলে দাঁড়িয়ে ছিল। সেটা যেমন এসেছিল তেমনই অন্য কোন ভাবে চলেও গেল।

আমার আর আমার স্বামীর জীবনে খারাপ সময় এসেছিল। কিন্তু বাপু সেই সময়ের আগে থেকেই আমাদের রক্ষা করার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাল, মানে সময় যেমন এসেছিল তেমনই চলেও গেল। কাল বা সময়কেও জয় করার ক্ষমতা একমাত্র আমার বাপুরই আছে। আমার স্বামী যখন ফোন করে দুর্ঘটনার কথা জানালেন, আমি শুধু জোরে 'বাপু' বলে চিৎকার করে উঠি আর বাপুর ফটোর সামনে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে ওনার ওপর সব ভার ছেড়ে দিই।

অনেক অনেক অম্বজ্ঞ বাপু, আপনি ছাড়া এটা কেউ করতে পারত না।

হরি ওঁ শ্রীরাম অম্বজ্ঞ

নাথসম্বিধ।

Comments