সদগুরুতত্ত্বকে যারা পরীক্ষা করে, অবশেষে তারা সেই তত্ত্বের কাছেই আত্মসমর্পণ করে—এই এক অত্যন্ত শক্তিশালী অভিজ্ঞতা। 'এই সদগুরু যদি সত্যি হন, তবে আমাকে সাপ দেখাবেন'—এমন কথা বলা এক শ্রদ্ধাবান নারী নিজের কথা অনুযায়ী কীভাবে সত্যের মুখোমুখি হলেন, তার বর্ণনা সত্যিই অবিস্মরণীয়।
-----------------------------
আমি মঙ্গলবীরা মোহনসিং কুলট। বাপুর কাছে আসার আগে আমি একজন কট্টর সাই ভক্ত ছিলাম। ২০০৩ সালে আমার স্বামী জীবিত থাকাকালীন আমি বাপুর নাম শুনেছিলাম। কিন্তু বাপুর কাছে যাওয়ার কথা আমি কখনো ভাবিনি। ডঃ যোগীন্দ্রসিং জোশীর লেখা 'ঋণজ্ঞাপক স্তোত্র'-এর নিচের এই লাইনগুলোর মতো আমার মনের অবস্থা ছিল:
বুদ্ধির মদে আমি উন্মত্ত হলাম। বাকবিতণ্ডাতে আটকে গেলাম।
নিজেকেই জ্ঞানী বলে ভাবলাম।
আজ তব কটাক্ষে অহংশূন্য হলাম।
অনিরুদ্ধ তোমার আমি কত ঋণী হলাম॥
বাপুর কাছে আসার আগে আমিও এমনই ছিলাম। সদগুরুকে চ্যালেঞ্জ (আহ্বান) জানানো। তাঁর অস্তিত্ব অস্বীকার করা। কিন্তু এই সদগুরুতত্ত্বই আমাকে তাঁর কাছে টেনে নিয়ে এলো এবং তাঁর কৃপায় আমি সর্ব সমর্থ হলাম। বাপুর প্রতি আমার সেই অভিজ্ঞতা নিচে দেওয়া হলো।
আমার নিজের একটি বিউটি পার্লার আছে। ২০১০ সাল থেকে রাখী সোনায়ণে নামে এক বাপু ভক্ত আমার পার্লারে আসতে শুরু করেন। পার্লারে আসার পর তিনি আমাকে সবসময় বাপুর ছোট ছোট অভিজ্ঞতার কথা শোনাতেন। বাপুর ওপর আমার বিশ্বাস না থাকায় তাঁর কথা শুনতে আমার বিরক্তি লাগত। রেডিওর মতো তাঁর মুখে সবসময় 'বাপু' নাম লেগে থাকত। আমার খুব রাগ হতো, মনে হতো কেন আমি এই মহিলার কথা এত সহ্য করছি? তিনি চলে গেলে পার্লারের মেয়েরা আর আমি খুব হাসাহাসি করতাম।
দেবতাকে ছেড়ে মানুষকে পুজো করা ঠিক নয়—আমরা এমনটাই বলতাম। কিন্তু 'দিদি, আপনি আমাকে বাপুর কথা বলবেন না'—একথাও আমি তাঁকে বলতে পারতাম না। পাছে তিনি রেগে যান আর আমার পার্লারে আসা বন্ধ করে দেন, তবে পার্লারের ক্ষতি হবে—এই ভয়ে ছয় মাস আমি এই যন্ত্রণা সহ্য করেছি। সেই সময় ওটা আমার কাছে যন্ত্রণাই ছিল। তাঁর 'বাপু পুরাণ' যেন শেষই হতো না। প্রতি শনিবার সন্ধ্যা ছটা বাজলে বাপুর উপাসনায় আসার জন্য তাঁর ফোন আসত। কোনো না কোনো অজুহাতে আমি তা এড়িয়ে যেতাম।
আমার ছেলে প্রসাদসিংহও এতে আপত্তি করত। একদিন আমি আর আমার ছেলে ঠিক করলাম, দেখিই না একবার গিয়ে উনি যেখানে যেতে বলেন। রাখীবীরার ফোন এল আর তিনি বললেন, "আজ আপনার ছেলেকে নিয়ে নিশ্চয়ই আসবেন। আমি আরতির জন্য আপনার নাম দিয়েছি। তাই আপনাদের আসতেই হবে।" আমি তাঁকে কথা দিলাম যে আসব। আসলে রোজকার এই অশান্তি থেকে মুক্তি পেতেই আমি উপাসনায় যেতে রাজি হয়েছিলাম।
সন্ধ্যায় বাড়িতে প্রদীপ জ্বালালাম। সেদিন পার্লারে খুব ভিড় ছিল। কর্মীদের বললাম বাকি খদ্দেরদের সামলাতে, আর আমি রাখী সোনায়ণের বলা জায়গায় গিয়ে ঘুরে আসছি। সব ঠাকুরকে প্রণাম করে কর্মীদের বললাম, "কে এই বাপু দেখিই তো। তিনি যদি সত্যিই কোনো সদগুরু হন, তবে আমাকে সাপ দেখাবেন (আমি সাপকে খুব ভয় পেতাম)।" এমন বিদ্রূপ করে সাইবাবার ছবির দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে আমি বাপুর কাছে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়লাম।
বাপুর উপাসনা কেন্দ্রে খুব ভিড় ছিল। সব ভক্তরা শৃঙ্খলার সাথে বসে ছিলেন। আমি রাখীবীরার পাশে গিয়ে বসলাম। বই দেখে উপাসনা করলাম। তখন আরতির জন্য নাম ডাকা হচ্ছিল। যখন আমার নাম ডাকা হলো, সত্যি বলছি আমার খুব আনন্দ হলো। আরতির জন্য বাপুর ছবির সামনে দাঁড়ালাম। বাপুরের পাদুকা আর ছবি দেখে মনে হলো স্বয়ং বাপু সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, মন শান্ত হয়ে গেল। সেবকরা খুব ভালোবাসার সাথে কাজ করছিলেন আর হাসিমুখে 'হরি ওঁ' বলে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন। আমার এগুলো খুব ভালো লাগল। কিন্তু মন তখনও তর্কে আটকে ছিল। ভাবছিলাম সাইবাবাকে ছেড়ে এই বাপুর পেছনে যাব না। বাড়ি গিয়ে রাখীকে বলে দেব, 'তুমি বাপুর বদলে সাইবাবার প্রার্থনা করো, করবে? না তো? তাহলে আমার পেছনে লেগো না।' পরের শনিবার থেকে উপাসনায় যাব না বলেও মনে মনে ঠিক করে নিলাম।
উপাসনা শেষে বাড়ি ফিরে দরজা খুলে যা দেখলাম, তাতে আমি একেবারে হতবাক হয়ে গেলাম। বাথরুমের সামনে একটি ছোট সাপের বাচ্চা দেখতে পেলাম। আমি সাপকে খুব ভয় পাই বলে সঙ্গে সঙ্গে প্রসাদকে বললাম, "বাবা, এটাকে ধরে দূরে ফেলে দিয়ে আয়।" আমরা দুজনে মিলে ওটাকে দূরে রাস্তায় ফেলে দিয়ে এলাম। বাড়ির কাছে ফেললে ফিরে আসতে পারে ভেবে দূরে গিয়েছিলাম। রাতে খেয়ে শুয়ে পড়লেও সাপের বাচ্চার ছবিটা চোখের সামনে থেকে সরছিল না।
পরদিন সকালে রান্নাঘরে গিয়ে দেখি, ঠিক একই মাপের একটি সাপের বাচ্চা ঠাকুরের ঘরের কাছে রয়েছে। আমরা দুজনেই এবার খুব ভয় পেয়ে গেলাম। আবার ওটাকে ধরে দূরে ফেলে এলাম। দুপুর তিনটে নাগাদ পার্লারের মেয়েরা এল। আমি ওদের সবটা বললাম। তখন সব মেয়েরা একসাথে চিৎকার করে উঠল। আমার মনে হলো ওরা কি আবার সাপ দেখল নাকি! ওই চিন্তাতেই আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছিল।
মেয়েরা আমাকে বলল, "ম্যাডাম, কাল আপনি কী বলেছিলেন মনে করুন!" আমার কিছু মনে পড়ছিল না, আর আমি কিছুই বলিনি—একথা স্পষ্ট জানালাম। আমার ভয় দেখে ওরা যা বলল, তা শুনে আমার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেল। আমি বাপুর উপাসনায় যাওয়ার সময় বিদ্রূপ করে সাইবাবার দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, "কে এই বাপু দেখি, তিনি যদি সদগুরু হন তবে আমাকে সাপ দেখাবেন।" ওরে বাবা! একি করে বসলাম আমি? এই ভেবে আমি ছুটতে ছুটতে রাখীবীরার বাড়ি গেলাম। তিনি সঙ্গে সঙ্গে 'উদী' (পবিত্র ভস্ম) দিয়ে সারা বাড়িতে ছড়াতে বললেন। সত্যি বলছি, তারপর থেকে আজ পর্যন্ত বাড়িতে কোনোদিন সাপ বেরোয়নি, আর এখন আমার বিশ্বাস কোনোদিন বেরোবেও না।
বিশ্বাসের সাথে যখন আমি বাড়িতে উদী ছড়াতে শুরু করলাম, সেই মুহূর্ত থেকে আমি 'তাঁর' পা শক্ত করে ধরেছি—অনন্ত জন্ম পর্যন্ত না ছাড়ার জন্য! জয় জগদম্ব জয় দুর্গে!
যেমন চড়ুই পাখির পায়ে সুতো।
বেঁধে টেনে আনে নিজের কাছে॥
তেমনই সত্যিই তুমি এনেছো আমাকে।
আমার জন্য চিন্তা তোমার, বুঝেছি আজ॥
অনিরুদ্ধ তোমার আমি কত ঋণী হলাম॥
অনিরুদ্ধ তোমার আমি কত ঋণী হলাম॥
ঠিক এই রকম কবিতার মতোই আমার সদগুরু আমাকে উপাসনায় শামিল করে নিলেন। রাখীবীরা সোনায়ণের মধ্যস্থতায়।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, 'আমি সদগুরুর কাছে যাচ্ছি'—একথা বলা ভুল। 'তিনিই' তাঁর ভক্তদের নিজের দিকে টেনে নেন এবং তাদের জীবন আনন্দ, সুখ, সামর্থ্য ও সমৃদ্ধির রঙে রাঙিয়ে তোলেন, ভরিয়ে দেন। 'অনেক কষ্টে সদগুরুর প্রাপ্তি হয়' লোকে বলে, কিন্তু আমার 'ড্যাড' (আমার বাপু) নিজেই আমার কাছে ছুটে এসেছেন; কেবল আমার প্রতি অকারণ ভালোবাসার কারণে। ১০০% সত্যি।
অম্বজ্ঞ।
| Hindi | English |
|---|---|

Comments
Post a Comment