এই শ্রদ্ধাবান মহিলা নিজের জীবনে প্রাপ্ত অনেক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। সব অভিজ্ঞতা পড়ার পর সদ্গুরু অনিরুদ্ধের অসীম ও অপার শক্তির কথা উপলব্ধি না করে থাকা যায় না। সংকট বা সমস্যা যাই হোক না কেন, আর যারই হোক না কেন, শ্রদ্ধাবানদের আশ্রয়স্থল একটাই - সদ্গুরু অনিরুদ্ধ!
------------------------------------
আমি শ্বেতাবীরা কাসেকর, মুলুন্ড (পূর্ব) উপাসনা কেন্দ্রের একজন শ্রদ্ধাবান ভক্ত। পেশাগত জীবনে আমি এক্সিম ব্যাংকে ম্যানেজার পদে কর্মরত আছি।
আমার জীবনে প্রথমবার সদ্গুরু অনিরুদ্ধ বাপুর দর্শন লাভের সৌভাগ্য হয় ২০০২ সালে, যখন আমি বি.কম এর শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলাম। সেই প্রথম দর্শনের মুহূর্তটি আজও আমার হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে। তখনও বুঝতে পারিনি যে, এই একটিমাত্র দর্শন আমার সমগ্র জীবনকে নতুন দিশা দেবে এবং সদ্গুরুর স্নেহ, কৃপা ও আশীর্বাদে আমার জীবন আলোকিত হয়ে উঠবে।
সেই সময় ডিসিলভা স্কুলে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রবচনের সেটিই ছিল শেষ বৃহস্পতিবার। এরপর থেকে বাপুজির প্রতি বৃহস্পতিবারের প্রবচন বান্দ্রার নিউ ইংলিশ স্কুলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেই সময় আমি পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও মানসিকভাবে অস্থির ছিলাম। আমার মাসি আগে থেকেই বাপুজির সৎসঙ্গে যেতেন, কিন্তু তখন এ সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। পরে যখন বিষয়টি জানতে পারলাম, তখন নানা দুশ্চিন্তায় জর্জরিত অবস্থায় মনে হলো, আমিও একবার বাপুজির প্রবচনস্থলে যাই।
যখন আমি প্রথমবার ডিসিলভা স্কুলে প্রবচন শুনতে গিয়েছিলাম, তখন মনে মনে বাপুজিকে বলেছিলাম, “আগামী বৃহস্পতিবার থেকে তো প্রবচন বান্দ্রায় হবে, তাই সেখানে আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব হবে না।”
কিন্তু সেই রাতেই আমি একটি স্বপ্ন দেখলাম। স্বপ্নে বাপুজির দর্শন লাভ করি। সেই দর্শনের পর কীভাবে যেন সবকিছু বদলে গেল। তারপর থেকে আমি নিয়মিত প্রতি বৃহস্পতিবার বাপুজির প্রবচনে যেতে শুরু করলাম। আজও মনে হয়, সেই স্বপ্নই যেন আমার জীবনের এক নতুন পথের সূচনা করেছিল।
আমি বি.কম পরীক্ষায় ৭৭% নম্বর পেয়েছিলাম। এরপর আমার ইচ্ছা ছিল ব্যাংকিং সেক্টরে কাজ করার। সেই উদ্দেশ্যে ভান্ডারকর-কালে সি.এ. ফার্মে কাজ করার সুযোগ পাই এবং সেখানে ব্যাংক অডিটের বিষয়ে বেশ ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন করি।
কিন্তু ব্যাংকিং সেক্টরের বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সত্ত্বেও আমার কাঙ্ক্ষিত চাকরি হচ্ছিল না। এই দুশ্চিন্তা নিয়ে আমি সুচিতদাদার কাছে যাই। তিনি আমাকে কিছু উপাসনা করার পরামর্শ দেন।
আমি প্রায় দেড় বছর ভান্ডারকর-কালে ফার্মে কাজ করেছি। যদিও সেখানে অর্ধেক বেতনে কাজ করতে হয়েছিল, তবুও সেই সময়ে যে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা আমার ভবিষ্যৎ জীবনে অত্যন্ত উপকারী হয়েছে। তাই আজও সেই সময়টিকে আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি।
এরপর আমি সারস্বত ব্যাংক-এ কর্মকর্তা পদে চাকরির জন্য সাক্ষাৎকারের ডাক পাই। কিন্তু পোস্টিং মুম্বাইয়ের বাইরে হওয়ায় আমি বাইরে যেতে রাজি হইনি। অবশেষে আমার নির্বাচন এক্সিম ব্যাংকে হয়ে গেল এবং আমাকে ইন্টারভিউ এর জন্য ডাকা হলো। আমি মনে মনে বাপুজিকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম, কারণ কোনো রকম সুপারিশ ছাড়াই আমাকে এই চাকরির জন্য ডাকা হয়েছিল তাও আবার আমার বর্ধমান ব্রতাধিরাজ পালনের সময়ে! ব্রত সম্পন্ন করার পর, বৃহস্পতিবার আমি সাক্ষাৎকার দিতে গেলাম। লিখিত পরীক্ষা বেশ ভালোই হয়েছিল। ব্যাংকের আবেদনপত্র পূরণ করার সময় ‘অন্যান্য কার্যক্রম’ অংশে আমি এ.এ.ডি.এম. (অনিরুদ্ধাজ অ্যাকাডেমি অফ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট) এর কোর্স করার কথা উল্লেখ করেছিলাম। সাক্ষাৎকারে আমাকে মূলত এই বিষয়েই প্রশ্ন করা হয়। সুযোগ পেয়ে আমি আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানাই যেমন পরিবেশবান্ধব গণেশমূর্তি নির্মাণ, স্বচ্ছতা অভিযান, এ.এ.ডি.এম.-এর কাজ ইত্যাদি। এছাড়াও সংক্ষেপে কোলহাপুর মেডিক্যাল ক্যাম্পের কথাও বলি। আমার কথা শুনে তাঁরা অত্যন্ত মুগ্ধ হন, এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং শেষ পর্যন্ত আমাকে নির্বাচিত করেন। আমার বর্ধমান ব্রতের প্রথম বছরেই বাপুজি যেন আশীর্বাদস্বরূপ আমাকে এক্সিম ব্যাংকের চাকরি প্রদান করেছিলেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এটি ছিল আমার সদ্গুরুর কৃপা এবং তাঁর নির্দেশে করা উপাসনারই ফল। এরপর চাকরির পাশাপাশি আমি ম্যানেজমেন্টের পরীক্ষাও দিই। কিন্তু পরীক্ষাটি খুব একটা ভালো হয়নি। আমার মনে হচ্ছিল, মোট নম্বরের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশের উত্তরই আমি সঠিকভাবে লিখতে পেরেছি। সেই সপ্তাহের বৃহস্পতিবার, দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থীরা বাপুজির দর্শনের জন্য এসেছিল। আমিও তাদের সঙ্গে বাপুজির দর্শন লাভ করি। সেদিনের প্রবচনে বাপুজি ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক ও অনুপ্রেরণামূলক কিছু কথা বলেছিলেন। সেই কথাগুলো শুনে আমার মনোবলও অনেক বেড়ে গিয়েছিল। ফলাফল প্রকাশের দিন আমি সত্যিই বিস্মিত হয়ে গেলাম। আমি ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়েছি! অথচ আমার ধারণা ছিল, মাত্র ৩০ শতাংশ উত্তরই ঠিকভাবে লিখেছিলাম। পরবর্তী আরেকটি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও প্রায় একই ঘটনা ঘটল। আগের রাতে আমি সিলেবাসের মাত্র ৫০ শতাংশ পড়তে পেরেছিলাম। পরদিন পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় আমি খুবই হতাশ ছিলাম। কিন্তু সেই সদ্গুরুতত্ত্বের অপার লীলা দেখুন! প্রশ্নপত্রে অধিকাংশ প্রশ্নই সেই অংশ থেকে এসেছিল, যা আমি পড়েছিলাম। ফলে আমি পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে পেরেছিলাম। এই ঘটনাগুলো আজও আমাকে অনুভব করায় যে, সদ্গুরুর কৃপা, আশীর্বাদ ও সঠিক পথে চলার আন্তরিক চেষ্টা থাকলে জীবনের কঠিন পথও অনেক সহজ হয়ে যায়।
এটাই সেই করুণাময় সদ্গুরুতত্ত্বের অপার লীলা! তাঁরই কৃপায় আমি জীবনের অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও একসঙ্গে চাকরি ও পড়াশোনা সামলাতে পেরেছিলাম। যখন চারদিক অনিশ্চয়তা ও সংগ্রামে ভরা ছিল, তখন সেই সদ্গুরুতত্ত্বই আমার শক্তি, সাহস ও ভরসার একমাত্র অবলম্বন হয়ে উঠেছিলেন। শুধু আমারই নয়, তিনি যেন আমার সমগ্র পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তাঁর আশীর্বাদে আমার মায়েরও উপযুক্ত স্থানে বদলি (ট্রান্সফার) হয়ে যায় এবং আমার ভাইও একটি ভালো চাকরি পেয়ে যায়। আজ পিছনে ফিরে তাকালে উপলব্ধি করি, এই সমস্ত ঘটনাই ছিল সেই অসীম দয়াময় সদ্গুরুর কৃপালীলারই প্রকাশ। তাঁর করুণা, স্নেহ ও আশীর্বাদ ছাড়া এত প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের পরিবারের পক্ষে এগিয়ে চলা সম্ভব হতো না।
আমার দাদুর একটি অভিজ্ঞতাও আমি আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। দাদু আমার মাসির সঙ্গেই থাকতেন। তাঁর বয়স যখন ৮৫ বছর, তখন জানা গেল যে তিনি প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত। তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন। এক শনিবার আমার মাসি ফোন করে জানালেন যে দাদু অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। আমি তাঁর সমস্ত চিকিৎসার নথিপত্র নিয়ে ডাঃ সুচিতদাদার ক্লিনিকে গেলাম। সেখানে ডাঃ শিবানন্দসিংহ ফাইল দেখে বললেন, “এটি চতুর্থ পর্যায়ের (ফোর্থ স্টেজ) ক্যান্সার, এবং এই অবস্থায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা খুবই কঠিন।” তখন আমি সুচিতদাদার কাছে শুধু একটি প্রার্থনাই করেছিলাম—দাদুর জীবনের শেষ সময় যেন কষ্ট ও যন্ত্রণায় না কাটে। সুচিতদাদা আমার দাদুর জন্য রামরক্ষা পাঠ করার পরামর্শ দিলেন। আশ্চর্যের বিষয়, ঠিক পরের দিনই আমার মাসির ফোন এল। তিনি জানালেন যে দাদুর সমস্ত ব্যথা যেন একেবারে দূর হয়ে গেছে। যদিও তিনি তখনও শয্যাশায়ী ছিলেন, তবুও তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক ও স্থিতিশীল ছিল। এর প্রায় দুই বছর পরে দাদু শান্তিপূর্ণভাবে পরলোকগমন করেন। সবচেয়ে বড় কথা, জীবনের শেষ সময়ে তাঁকে আর কোনো অসহ্য যন্ত্রণা বা কষ্ট ভোগ করতে হয়নি।
তারপর একদিন স্বপ্নে বাপুর দর্শন পেলাম। স্বপ্নে দেখলাম, তাঁর মুখমণ্ডল যেন ক্ষতচিহ্নে ভরা, গভীর আঘাতে জর্জরিত। সেই দৃশ্য দেখে আমার মনে এক গভীর অনুভূতি হয়েছিল যে দাদুর সমস্ত যন্ত্রণা, কষ্ট আর বেদনা যেন বাপু নিজেই নিজের ওপর ধারণ করে নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, ভক্তদের দুঃখ লাঘব করার জন্য বাপু অক্লান্তভাবে তাদের পাশে থাকেন এবং অনেক সময় তাদের কষ্টও নিজের ওপর গ্রহণ করেন। ভাবলে অবাক হতে হয়, আমাদের কল্যাণের জন্য তাঁকে কত না কষ্ট সহ্য করতে হয়! দাদুর জীবনের শেষ সময়ে বাপু তাঁকে যেন এক ছোট্ট শিশুর মতো স্নেহে, মমতায় ও সুরক্ষার আবরণে আগলে রেখেছিলেন। তাঁর শেষ দিনগুলো তাই যন্ত্রণার নয়, বরং শান্তি, ভালোবাসা ও আশ্রয়ের অনুভূতিতে ভরপুর ছিল। এই স্মৃতি আজও আমার হৃদয়কে গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভক্তিতে ভরিয়ে দেয়।
আমি আপনাদের আর একটি অভিজ্ঞতা শোনাতে চাই। এই অভিজ্ঞতাটি শ্রীঅনিরুদ্ধ গুরুক্ষেত্রম-এর সঙ্গে জড়িত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, শ্রীঅনিরুদ্ধ গুরুক্ষেত্রমে মোঠি আই (মা চণ্ডিকা)-র চরণে নিবেদিত কোনো প্রার্থনাই কখনও বিফলে যায় না।
একসময় আমার মায়ের স্পন্ডিলাইসিসের সমস্যা গুরুতর আকার ধারণ করেছিল। অবস্থা এমন হয়েছিল যে তাঁকে মুলুন্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সেখানে তাঁর জন্য ট্র্যাকশন চিকিৎসা শুরু করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে এরপর পুরো এক মাস সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলা হয়। মায়ের এই শারীরিক অবস্থার কারণে আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। বারবার মনে প্রশ্ন জাগছিল—আমার মা কি আর কখনও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন? এই চিন্তা ও উদ্বেগে আমার মন ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিল।
এরপর আমি গুরুক্ষেত্রমে মোঠি আই (মা চণ্ডিকা) এবং ত্রিবিক্রমের চরণে আন্তরিক প্রার্থনা করেছিলাম। সেই প্রার্থনায় ছিল গভীর আকুলতা, অগাধ বিশ্বাস এবং একরকম শিশুসুলভ জেদ যেন মায়ের সুস্থতা ছাড়া আমি আর কিছুই চাই না। প্রার্থনা শেষে বাড়ি ফিরে যে দৃশ্য দেখলাম, তা দেখে আমি সত্যিই বিস্মিত হয়ে গেলাম। আমাদের বাড়ির দরজায় একটি ফুলের মালা ঝুলছিল। বিষয়টি দেখে আমি মাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “এই মালাটা কোথা থেকে এলো?” মা বললেন, “তোমার মাসি তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে গুরুক্ষেত্রমে পুষ্পসেবায় অংশগ্ৰহণ করেছিলেন। তাই আমিও তাঁর সঙ্গে গুরুক্ষেত্রমে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রসাদ হিসেবে এই মালাটি পেয়েছি, তাই দরজায় টাঙিয়ে দিয়েছি।” মায়ের শারীরিক অবস্থার যে এত বড় উন্নতি হয়েছে, তা দেখে আমি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। গুরুক্ষেত্রমে মোঠি আই এবং বাপুজির কাছে প্রার্থনা করার পর, যে মানুষটি কিছুদিন আগেও এত অসুস্থ ছিলেন, তিনিই আবার কারও সাহায্য ছাড়াই গুরুক্ষেত্রমে যেতে পেরেছেন এই ঘটনাটি আমার কাছে ছিল সম্পূর্ণ অলৌকিক এবং বোধের অতীত। সত্যিই, আমাদের প্রতি মোঠি আই ও বাপুজির কত অসীম করুণা ও স্নেহ! আজ মনে হয়, আমার অজান্তেই মোঠি আই আমাকে এক অমূল্য উপহার দিয়েছিলেন আমার মায়ের সুস্থতা, সাহস এবং নতুন করে জীবন ফিরে পাওয়ার আনন্দ। এই অভিজ্ঞতা আমার হৃদয়ে আজও কৃতজ্ঞতা ও ভক্তির এক উজ্জ্বল স্মৃতি হয়ে আছে।
আমার এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সন্তান না হওয়ার কারণে খুবই মনমরা ও দুঃখী হয়ে থাকত। এই বিষয়টি তাকে ভেতর থেকে গভীরভাবে কষ্ট দিত। একদিন সে আমার টেবিলের ওপর রাখা বাপুজির একটি ছবি দেখতে পায়। ছবিটি দেখে সে বাপুজি সম্পর্কে জানতে চাইল। তখন আমি তাকে বাপুজির পরিচয় ও তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানালাম।
সেই সময় গণেশ উৎসব এগিয়ে আসছিল। তাই আমি তাকে বাপুজির বাড়িতে অনুষ্ঠিত গণেশ উৎসবের কথা বললাম এবং সেখানে ভক্তদের স্বেচ্ছায় রাখা ‘সংকল্প-সুপারি’-র বিষয়েও জানালাম। সে ইতিমধ্যেই নানা জায়গায় মানত করেছিল এবং অনেক প্রার্থনাও করেছিল। তখন আমি তাকে বললাম, “তুমি যদি ইচ্ছা করো, তাহলে বাপুজির বাড়িতে গণপতিজির দর্শনের জন্য যেতে পারো। সেখানে সংকল্প-সুপারি নিয়ে আন্তরিকভাবে সংকল্প করো।” আমার কথাগুলো সে মনোযোগ দিয়ে শুনল। আমি শুধু এটুকুই অনুভব করছিলাম যে, যখন মন থেকে বিশ্বাস ও ভক্তি নিয়ে প্রার্থনা করা হয়, তখন সেই প্রার্থনা মানুষকে আশা, সাহস এবং মানসিক শক্তি জোগায়।
সে আমার কথামতোই কাজ করেছিল। আর আশ্চর্যের বিষয়, সেই বছরই সে এক ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দেয়। গণেশ উৎসবে প্রথমবার অংশগ্রহণ করতে আসা আমার সেই বান্ধবীর মনের আকাঙ্ক্ষা করুণাময় সদ্গুরুতত্ত্বের কৃপায় পূর্ণ হয়েছিল।
জীবনে সংকট, দুঃখ ও প্রতিকূলতা সকলের কাছেই আসে। কিন্তু আমাদের ‘ড্যাড’ তাঁর সঠিক দিকনির্দেশনা, স্নেহ এবং আশীর্বাদের মাধ্যমে প্রতিটি ভক্তকে সেই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখান এই বিশ্বাস আমি এবং আমার সমগ্র পরিবার অন্তরের গভীর থেকে ধারণ করি এবং সকলের সামনে তুলে ধরি।
আমি অম্বজ্ঞ।
॥ হরিঃ ওঁ । শ্রীরাম । অম্বজ্ঞ ॥
| Hindi | English |
|---|---|

Comments
Post a Comment