একজন শ্রদ্ধাবান ভক্ত ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হওয়া সত্ত্বেও, অসীম ধৈর্য ও মানসিক শান্তি বজায় রেখে ধাপে ধাপে সেই দুর্ঘটনার সমস্ত প্রতিকূলতা অতিক্রম করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তিনি আবারও আগের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাঁর জীবনে এই আশ্চর্য পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র সদ্গুরু অনিরুদ্ধ বাপুর অপরিসীম কৃপা ও আশীর্বাদের বলেই।
--------------------------------------------------
হরি ওঁ।
২০০৩ সাল থেকে আমি সদ্গুরু অনিরুদ্ধ বাপুর সৎসঙ্গে অংশগ্রহণ করে আসছি। তাঁর কৃপায় আমি জীবনে বহু অলৌকিক ও হৃদয়স্পর্শী অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছি। সেই অসংখ্য অভিজ্ঞতার মধ্য থেকে একটি অভিজ্ঞতা এখানে আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।
আমি ২০০৯ সাল থেকে ফোন্ডা (গোয়া) উপাসনা কেন্দ্রে নিয়মিত উপাসনায় যেতে শুরু করি। সেখানে আমার পরিচয় হয় শ্রদ্ধাবান বাপুভক্ত প্রথমেশসিংহ নায়কের সঙ্গে। তিনি আমাকে তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ করে দেন। আমি তাঁর কোম্পানিতে সুপারভাইজার হিসেবে যোগ দিই। পাশাপাশি উপাসনা কেন্দ্রের বিভিন্ন সেবাকার্যেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে থাকি। এই ঘটনাটি ২০১২ সালের। সেদিন কাকতালীয়ভাবে মেশিন অপারেটর উপস্থিত না থাকায় আমাকে নিজেই মেশিন চালাতে হয়েছিল। কাজ করার সময় হঠাৎ যে জিনিসটির ওপর আমি কাজ করছিলাম, সেটি মেশিনে আটকে যায়। সেটি বের করার জন্য আমি তাড়াতাড়ি হাত ঢুকিয়ে দিই। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, মুহূর্তের মধ্যেই আমার হাত মেশিনের মধ্যে আটকে যায়। তীব্র যন্ত্রণায় আমি জোরে চিৎকার করে উঠি। সেখানে উপস্থিত এক কর্মী আমার চিৎকার শুনে দ্রুত ছুটে আসে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে সে এক মুহূর্ত দেরি না করে মেশিনটির সুইচ বন্ধ করে দেয়।
মেশিনটির সুইচ বন্ধ হওয়ার পর আমি সঙ্গে সঙ্গেই হাতটি বাইরে বের করে আনি। দেখি, আমার হাতের সমস্ত আঙুল প্রায় ঝুলে পড়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এত ভয়াবহ ঘটনা ঘটার পরেও আশ্চর্যজনকভাবে আমি যেন সম্পূর্ণ শান্ত ছিলাম, মনে হচ্ছিল, যেন কিছুই ঘটেনি!
সেই মুহূর্তে আমার মুখে শুধু সদ্গুরুর নামই ছিল। আমি বারবার বাপুকে স্মরণ করছিলাম। কাছে থাকা জলভর্তি একটি বালতিতে হাত ডুবিয়ে রাখলাম এবং সেখানে পড়ে থাকা একটি কাপড় নিয়ে হাতের চারপাশে জড়িয়ে নিলাম। কিন্তু তাতেও রক্তক্ষরণ থামছিল না। আমাকে সাহায্য করতে ছুটে আসা সেই কর্মী পুরো ঘটনাটি দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। সে এতটাই বিচলিত হয়ে পড়েছিল যে কাঁদতে শুরু করল। আর আমি তখন একমনে শুধু বাপুকেই ডাকছিলাম এবং প্রার্থনা করছিলাম, “বাপু, এখন কী করতে হবে, তা আপনিই দেখুন। আপনার কৃপাই আমার একমাত্র ভরসা।”
বাপুর কৃপাতেই আমি সেই কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি পেয়েছিলাম। আমি সেই কর্মী ছেলেটিকে বললাম, “আমাকে ফোনটা দাও।” কণকাভলিতে আমার পরিচিত একজন শ্রদ্ধাবান বাপুভক্ত, সচিনসিংহ নামে, পাশের কারখানাতেই কাজ করতেন। আমি ফোনে তাঁকে পুরো ঘটনাটি জানালাম। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করে বললেন, “আঙ্কল, আপনি একদম চিন্তা করবেন না। আমি এখনই আপনাকে নিতে আসছি।” তিনি মোটরবাইকে করে এলেন এবং বললেন, “আঙ্কল,আমি আপনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আপনি কি বাইকে বসতে পারবেন?” আমি সম্মতি দিলাম। তারপর আমরা প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হাসপাতালে পৌঁছালাম। হাসপাতালে প্রথমে আমার হাতে ড্রেসিং করা হয়। এরপর আমার মাথা ঘুরতে শুরু করে। চিকিৎসকেরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় দেখা গেল, আমার রক্তে শর্করার মাত্রা (ডায়াবেটিস) অনেক বেশি। তাই সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয় বলে তাঁরা জানালেন। এই কথা শুনে আমি খুবই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এরপর আমার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা শুরু হয়। অবশেষে রাত প্রায় ১১টার দিকে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে এলে আমার অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর প্রতিদিন আমি উদি লাগাতাম এবং রামরক্ষা ও হনুমান চালীসা পাঠ করতাম। হাতের ব্যথা তখনও প্রবল ছিল এবং আমাকে ১৫ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। পরে আমি বান্দায় ফিরে আসি। প্রায় এক মাস পর আমার হাতে বসানো রডটি খুলে ফেলা হয়। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও ওষুধের পাশাপাশি উদি লাগানো অব্যাহত রেখেছিলাম। পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে আমি বাপুকে প্রার্থনা করতাম, “বাপু, আপনিই আমাকে দ্রুত সুস্থ করে তুলুন।” হাতে তীব্র ব্যথা থাকার কারণে আমি রামনামের খাতা লিখতে পারছিলাম না। এই বিষয়টি আমাকে খুব কষ্ট দিত। কিন্তু সদ্গুরুর অসীম কৃপায় আজ আমার হাত এতটাই সুস্থ হয়ে উঠেছে যে আমি আবার সেই খাতা লিখতে পারি, দৈনন্দিন সব কাজ করতে পারি। শুধু তাই নয়, এখন আমি সেই হাত দিয়ে ভারী জিনিসও তুলতে সক্ষম।
আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শুধু এতটুকুই বলব যে, বাপুই আমাকে অপরিসীম সাহস ও ভরসা দিয়েছেন এবং তাঁর কৃপাতেই আমার হাত সুস্থ হয়ে উঠেছে। আমার হাত এবং হাতের আঙুলগুলি রক্ষা পেয়েছে, এটি একমাত্র এবং একমাত্র বাপুরই কৃপা। শেষে আমি শুধু এই কথাটিই বলতে চাই
“বাপু যদি রক্ষাকর্তা হন, তবে আমাকে আঘাত করার বা বিনাশ করার ক্ষমতা কার আছে?”
॥ হরি ওঁ ॥ ॥ শ্রীরাম ॥ ॥ অম্বজ্ঞ ॥ ॥ নাথসংবিধ ॥
| Hindi | English |
|---|---|

Comments
Post a Comment