একই জায়গায় কয়েক দিনের ব্যবধানে একই রকম দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু প্রথম দুর্ঘটনার গাড়ির সব যাত্রী মারা যান, আর দ্বিতীয় দুর্ঘটনার গাড়ির যাত্রীরা কেবল বাঁচলেনই না, বরং কোনো চোট না পেয়ে সহিসালামতে নিজে থেকেই গাড়ির বাইরে চলে এলেন। এমনটা কী করে হলো? উত্তর একটাই। দ্বিতীয় গাড়ির যাত্রীরা ভক্ত (श्रद्धावान) ছিলেন এবং গাড়ির ভেতর অনবরত গুরুক্ষেত্রম্ পাঠ আর সদগুরু গুণসংকীর্তন চলছিল।
-----------------------------
যাঁর হৃদয়ে শ্রীগুরুস্মরণ থাকে | তাঁর কিসের এত চরম ভয় |
কালমৃত্যুও তাঁকে ছুঁতে পারে না জানবেন | অপমৃত্যু আর কী করবে ॥
আমি ২০০৯ সালে বাপু পরিবারে শামিল হই। আমার সাথে আমার পুরো পরিবারও বাপুর কাছে আসে আর আমাদের জীবনে বাপু পুরোপুরি জুড়ে যান। আস্তে আস্তে আমি মাসে এক-দুবার গুরুক্ষেত্রম্, শ্রীহরিগুরুগ্রামে যেতে শুরু করি আর প্রতিবারই বাপুকে আমি নতুন করে বুঝতে পারি, ওনাকে আরও কাছের মানুষ বলে মনে হতে থাকে। বাপুর কাছে যাওয়ার, সেবা করার যে সুযোগই পেতাম, তার প্রতিটিরই সদব্যবহার করার চেষ্টা করতাম। এই কারণেই আমার আর আমার পরিবারের বাপুর ওপর বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়ে যায়। বাপুর আশ্রয়ে আসার পর থেকে আমার আর আমার পরিবারের উন্নতিই হয়েছে। আমার একটা মোবাইলের দোকান আছে। বাপুর কৃপায় এই ব্যবসা বাড়তেই থাকে। আজ সেই দোকানের পাশেই আমি একটা নতুন ঘর নিয়েছি আর দুটি দোকানই খুব জোরকদমে চলছে। আমি বাপুর ছোট-বড় অনেক অভিজ্ঞতা পেয়েছি। তার মধ্যেই সবথেকে বড় আর আমাদের সবাইকে যেন একটা নতুন জীবন দেওয়া অভিজ্ঞতা হলো এটি।
২৯ আগস্ট ২০১৩, বৃহস্পতিবার - দহিহন্ডির (উঁড়ি বাজি) দিন। আমি আর আমার ভাই দোকানে ছিলাম। এমন সময় আমার বড় কাকার ফোন এল। উনি বললেন যে আজ আমরা জেজুরী যাব। দুপুর দুটো-আড়াইটে নাগাদ আমি, আমার ভাই, মা, কাকা আর কাকিমা - এই পাঁচজন জেজুরী যাওয়ার জন্য রওনা হলাম। আমাদের যেকোনো জায়গায় বেরোনোর আগে গাড়ির চাকায় উদী (পবিত্র ছাই) লাগিয়ে বেরোনোর অভ্যাস আছে। সেই অনুযায়ী গাড়ির চার চাকাতেই উদী লাগিয়ে, বাপুর জয়ধ্বনি (ললকারী) দিয়ে তবেই যাত্রা শুরু করলাম। আমার কাকা-কাকিমা বাপুভক্ত না হওয়ায়, আমি পথচলতি ওনাদের বাপুর নানা অভিজ্ঞতা আর বাপুর সেবা কার্যের কথা শোনাচ্ছিলাম। গাড়িতে যথারীতি অভঙ্গ আর স্তোত্রের সিডি চলছিল।
আমরা প্রথমে নারায়ণগাঁওয়ে দত্তবাপ্পার দর্শনে গেলাম। সেখানে দত্তবাপ্পার দর্শন করে গুরুক্ষেত্রম্ মন্ত্র পাঠ করলাম আর পরের যাত্রা শুরু করলাম। পথে থাকা প্রতিবালাজি মন্দিরেও ঘুরে এলাম। গাড়ির ভেতরের পরিবেশ পুরো বাপুূময় হয়ে উঠেছিল। আমরা সবাই খুব আনন্দে ছিলাম। দহিহন্ডির দিন হওয়ায় রাস্তায় একটু-আধটু ভিড় ছিল। আমরা জেজুরী গ্রামের কাছাকাছি এলাম। কিন্তু সেখানে মারাত্মক ট্রাফিক জ্যাম ছিল। রাস্তা ছোট হওয়ার কারণে গাড়িগুলো এক লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। আমাদের গাড়ির সামনে একটা বড় ট্রাক ছিল আর গাড়ির পেছনে ছিল আখ বোঝাই একটা কনটেইনার। ড্রাইভিং সিটে আমি আর আমার পাশে কাকা বসে ছিলেন। বাকিরা সবাই পেছনের সিটে ছিলেন। হঠাৎ গাড়ির পেছনে একটা সজোরে ধাক্কা লাগল।
মা পেছনে তাকিয়ে দেখল যে পেছনের সেই কনটেইনারটা আমাদের গাড়ির সাথে পুরো সেঁটে গেছে। কিন্তু ট্রাফিকের কারণে গাড়ি একটু আধটু আগে-পিছে হয়ই, এটা ভেবে আমি আমাদের গাড়িটা একটু এগিয়ে নিলাম। ঠিক তখনই সেই কনটেইনারটা মারাত্মক জোরে আমাদের গাড়িকে ধাক্কা মারল! গাড়ির কাচগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গেল আর গাড়িটা সামনের ট্রাকের ওপর গিয়ে সজোরে আছড়ে পড়ল। আমরা সবাই "বাপু বাপু" বলে চিৎকার করছিলাম। কী হচ্ছিল তা কেউই বুঝতে পারছিল না। কনটেইনার আর ট্রাকের মাঝে আমাদের গাড়িটা পুরো দুমড়ে-মুচড়ে চ্যাপ্টা হয়ে গিয়েছিল। আমরা সবাই কোনোমতে গাড়ি থেকে নামলাম। বাইরে আসার পর গাড়ির অবস্থা দেখে খুব ভয় পেয়ে গেলাম। কারণ গাড়িটা এমনভাবে দলা পাকিয়ে গিয়েছিল যে তার ভেতরের মানুষের বেঁচে ফেরা অসম্ভব ছিল। আমরা সবাই গুরুক্ষেত্রম্ মন্ত্র জপ করছিলাম।
গাড়ি থেকে বাইরে আসার পর আমি সবাইকে জিজ্ঞেস করলাম যে তোমরা লক কীভাবে খুললে? বাইরে এলে কীভাবে? কিন্তু কেউই কিছু বুঝতে পারছিল না। এত বড় ধাক্কা লাগার পরেও গাড়িটা স্টার্ট অবস্থাতেই ছিল আর গাড়ি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত দরজার লক খোলে না, এমনই সিস্টেম ছিল ওটাতে। সবথেকে বড় কথা, কাকা-কাকিমা তো লক কীভাবে খুলতে হয় তাও জানতেন না। তাও ওনারা সহিসালামতে বাইরে চলে এসেছিলেন! বিকট শব্দ হয়ে পেছনের কাচ ভেঙে গেল আর সমস্ত কাচের টুকরো মা, কাকিমা আর বড় ভাইয়ের গায়ের ওপর পড়ল। কিন্তু বাপুর কৃপায় কারও একটা আঁচড়ও লাগেনি। শুধু বাপুর জন্যই আমরা এই দুর্ঘটনা থেকে অক্ষত অবস্থায় বাইরে আসতে পেরেছিলাম।
বাপু একবার প্রবচনে বলেছিলেন - "যদি তোমাদের ওপর এমন সময় আসে যে তোমাদের গাড়ি দুটি গাড়ির মাঝে আটকে যায়, তাহলেও নিজের সন্তানদের বাঁচানোর জন্য সেই সদগুরুতত্ত্ব সামনের আর পেছনের দুটি গাড়িকে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে।" সত্যিই, এটা বাপুরই কৃপা যে উনি আমাদের দিয়ে দত্তবাপ্পার সামনে গুরুক্ষেত্রম্ মন্ত্র পাঠ করিয়ে নিয়েছিলেন। তাছাড়া আমাদের গাড়িটা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। যদি গাড়ি স্পিডে থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটত, তবে গাড়ি উড়ে গিয়ে আমরা অনেক দূরে ছিটকে পড়তাম। শুধু বাপুর গুণসংকীর্তন আর গুরুক্ষেত্রম্ মন্ত্রের জোরেই আমরা পার পেয়ে গেলাম, এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
দুর্ঘটনার পর আমরা পুলিশ স্টেশনে গেলাম। সেখানেও আমাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। আমাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য বাবা এলেন। ওনাদের সাথে রওনা দিয়ে আমরা ওয়াইতে (वाई) যাঁর বাড়িতে পাদুকা পুজো ছিল, সেখানে রাত ২.৩০ টায় গিয়ে পাদুকার ওপর মাথা রেখে খুব কাঁদলাম। কারণ সবাই জানত যে এই বিপদ থেকে বাপু নিজেই আমাদের উদ্ধার করেছেন। পুজো শেষ হওয়ার পর গুরুক্ষেত্রম্ মন্ত্র পাঠ করে প্রসাদ খেলাম আর তার পরেই সবাই শান্ত হলাম। পাদুকারূপী বাপুর দর্শনে সবাই একদম ফ্রেশ হয়ে গেলাম। সত্যিই বাপুর কৃপায় আমাদের যেন এক নতুন জন্ম হলো, কারণ পরে জানতে পারলাম যে কিছুদিন আগে ঠিক ওই জায়গাতেই একই রকম দুর্ঘটনা ঘটেছিল আর তাতে গাড়ির পুরো পরিবারটি ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছিলেন।
যিনি বাপুর হাত শক্ত করে ধরেছেন, তাঁকে বাপু কখনো একা ছেড়ে দেন না - এই অভিজ্ঞতা আমি নিজে লাভ করেছি। সাঙ্গলীতে যখন বাপু এসেছিলেন, তখনও আমি সেবায় ছিলাম। সেবা করার সময় আমরা সবাই বাপুর সাথে খুব আনন্দ-হুল্লোড় করেছিলাম। বাপুর সাথে ফটোও তুলেছিলাম। বাপুর সাথে আমার ফটো তোলার সময় বাপু কিছু ক্ষণের জন্য আমার হাত এত জোরে চেপে ধরেছিলেন যে আমি তা সহ্যই করতে পারছিলাম না। কিন্তু আজ আমি সেই সংকেতটা বুঝতে পারছি যে বাপু আমাদের আগে থেকেই শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন আর তাই এই সমস্ত বিপদ থেকে আলতো করে আমাদের সরিয়ে বাঁচিয়ে নিলেন।
যারা এলো তারা তরে গেল |
যারা এলো না তারা তেমনই রয়ে গেল ॥
॥ হরি ওম ॥
| Hindi | English |
|---|---|
.png)
Comments
Post a Comment