জীবন মানেই সুখ-দুঃখ, উত্থান-পতনের এক অবিরাম যাত্রা। কিন্তু যিনি বাপুর করুণাময় ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁর কাছে কোনো সংকটই ভয়ের কারণ হয়ে ওঠে না। ভক্তির শক্তি যদি খড়কুটোর মতো সামান্যও হয়, তবু করুণাসাগর বাপুর আশ্রয় তাঁর কাছে পর্বতের মতো অটল ও দৃঢ় হয়ে দাঁড়ায়।
তাই সংকট ছোট হোক বা বড় সেই সংকট থেকে মুক্তি পেতে শ্রীচণ্ডিকাকুলের কৃপা ও সহায়তা অবশ্যই লাভ হবে, এই অটল বিশ্বাসই প্রতিটি শরণাগত ভক্তের হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকে।
২০১৩ সালের মার্চ মাস থেকে আমার মাথায় অসহ্য রকমের উত্তাপ ও জ্বালাভাব অনুভূত হতে শুরু করে। অনেক চিকিৎসা ও নানা ধরনের ওষুধ সেবন করেও কোনো উপকার পাইনি। ২০১৪ সাল এসেও সেই কষ্টের কোনো পরিবর্তন হলো না। এই এক বছরের মধ্যে আমাদের বাড়িতে দুটি বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। কিন্তু বাপুর কৃপায় অন্তত বিয়ের দিনগুলো নির্বিঘ্নে কাটত। তবে বিয়ের পরের দিন থেকেই আমার মুখের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যেত। ১২ই মে মামাতো ভাইয়ের বিয়ে শেষ করে কারওয়ার থেকে ১৯শে মে মুম্বাই ফিরে আসি। ততদিনে মাথার সেই অসহ্য উত্তাপ ও যন্ত্রণা আরও বেড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকের কাছেও গিয়েছিলাম, কিন্তু তাতেও কোনো আরাম পাইনি। এরই মধ্যে আমার মনে হলো, চোখের কোণে বুঝি অঞ্জনি (গুহেরি) উঠছে। লোকমুখে শুনেছিলাম, সেখানে শুকনো মাছ ছোঁয়ালে নাকি সেটি আর বাড়ে না। তাই আমিও সেই বিশ্বাসে শুকনো মাছ ছুঁইয়ে দিলাম। কিন্তু এরপর আমার চোখের যে ভয়াবহ অবস্থা হলো, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
ততক্ষণে শুধু চোখ নয়, মাথাটাও যেন ফেটে যাওয়ার মতো ব্যথা করতে শুরু করেছিল। চিকিৎসক আমাকে রক্ত ও রক্তে শর্করার পরীক্ষা করাতে বলেছিলেন, কিন্তু আমি তা করাইনি। এদিকে চোখের অবস্থা ক্রমশ আরও খারাপ হতে লাগল। শেষ পর্যন্ত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. সাওলার কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিলাম। সন্ধ্যা ৭টার সময় দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু ততক্ষণে চোখের যন্ত্রণা আরও বেড়েই চলেছিল। ঠিক সেই সময় হঠাৎ আমার মনে পড়ল, সেদিনের ত্রিবিক্রম জল আমার কাছে সামান্য পরিমাণে অবশিষ্ট ছিল। আমি সঙ্গে সঙ্গে একটি ছোট বাটিতে সেই জল নিলাম, তাতে উদি (পবিত্র ভস্ম) মিশিয়ে বাপুর ছবির সামনে দাঁড়ালাম। অন্তরের গভীর থেকে তাঁর করুণার ভিক্ষা প্রার্থনা করে মনে মনে বললাম,
“বাপু, গত বৃহস্পতিবার আপনার দর্শন করতে পারিনি। এই বৃহস্পতিবারও কি আমাকে এমন চোখ নিয়েই আসতে হবে? দয়া করে এমন অবস্থায় যেন আমাকে শ্রীহরিগুরগ্রাম আসতে না হয়। অনুগ্রহ করে আমার চোখটি ভালো করে দিন।” এই আন্তরিক প্রার্থনা জানিয়ে আমি বাটিতে রাখা ত্রিবিক্রম জল চোখে লাগালাম। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঝেমধ্যেই এক-এক ফোঁটা করে সেই জল চোখে দিতে থাকলাম। এর আগে আমার চোখের অবস্থা এমন ছিল যে, গোলাপজল দিলেও তীব্র জ্বালা করত। কিন্তু সেদিন এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটল, ত্রিবিক্রম জল যেন সত্যিই আমার জন্য রামবাণ ওষুধের মতো কাজ করল।
অল্প সময়ের মধ্যেই আমার চোখ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেল এবং পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠল। ফলে আর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কোনো প্রয়োজনই রইল না।
শ্রীচণ্ডিকাকুলের এই করুণাময় কৃপা যেন সকল শ্রদ্ধাবান ভক্ত এবং তাঁদের ভক্তিপরায়ণ আত্মীয়-স্বজনের ওপর সর্বদা অক্ষুণ্ণ থাকে এই প্রার্থনাই করি। প্রত্যেকের জীবন যেন চণ্ডিকাকুল ও বাপুর কৃপাময় ছায়ায় সুরক্ষিত থাকে এবং সকলেই যেন সত্য, প্রেম ও আনন্দের পথেই চলতে পারেন, আপনাদের সকলের চরণে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।
| Hindi | English |
|---|---|

Comments
Post a Comment