জীবনে সদ্গুরুর কৃপায় ঘটে যাওয়া ছোট ছোট অভিজ্ঞতাগুলো যদি একত্র করা যায়, তবে প্রত্যেক শ্রদ্ধাবান ভক্তের কাছেই অভিজ্ঞতার এক অমূল্য ভাণ্ডার তৈরি হবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই প্রবীণ ভদ্রলোকও তেমনই অসংখ্য কৃপাময় অভিজ্ঞতার এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডারের অধিকারী। তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া ছোট ছোট অথচ গভীর হৃদয়স্পর্শী কয়েকটি অভিজ্ঞতা তিনি এই অনুভব কথনে তুলে ধরেছেন।
সত্যিই, বাপুর কৃপাধারা সর্বদাই আমাদের ওপর অবিরাম বর্ষিত হচ্ছে, আর আমরা সেই করুণাময় কৃপাস্নানে সর্বদা স্নাত হচ্ছি, এটাই চিরন্তন সত্য।
শুরুর দিকে বাপু সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। আমি গত ৪৫ বছর ধরে ভাণ্ডুপে বসবাস করছি। আমার পেশা বিল্ডিং নির্মাণকাজের শ্রমিক-ঠিকাদারি। আমি প্রতিদিন বার্তাহার পত্রিকা পড়তাম। সেই পত্রিকায় প্রকাশিত বাপুর ভক্তদের নানা অভিজ্ঞতার কথা নিয়মিত পড়তাম। সেখানে প্রকাশিত বাপুর একটি ছবি কেটে নিজের মানিব্যাগে রেখে দিয়েছিলাম। ধীরে ধীরে বাপুর নাম জপ করতে করতে ছয় মাস কেটে গেল। কিন্তু তবুও আমার কোনো কাজের ব্যবস্থা হচ্ছিল না। আগের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমি ভাণ্ডুপে নানা জায়গায় নতুন কাজের সন্ধানে ঘুরে বেড়াতাম, কিন্তু কোথাও কাজ পাচ্ছিলাম না। আমার তিন ভাই ডোম্বিভলিতে থাকেন। একদিন ডোম্বিভলির একটি দোকানে বাপু ,আই ও দাদার একটি ছবি দেখতে পেলাম। সেই দিন থেকেই আমি আন্তরিকভাবে ‘ওঁ মনঃসামর্থ্যদাতা শ্রীঅনিরুদ্ধায় নমঃ’ এই মন্ত্র জপ করতে শুরু করি।
আমার কাছে সেন্টারিং প্লেট এবং নির্মাণকাজে ব্যবহৃত আরও কিছু সরঞ্জাম অবশিষ্ট ছিল। সেগুলো বিক্রি করার জন্য আমি প্রতিদিন বদলাপুর যেতাম। কিন্তু যথাযথ দাম না পাওয়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরেও কিছু বিক্রি না করেই বাড়ি ফিরে আসতাম। অনেকেই ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত দাম দিতে চাইতেন, কিন্তু আমার আশা ছিল অন্তত ২০,০০০ টাকা পাব। শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত হয়ে ১৫,০০০ টাকায় বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং একজন ক্রেতার সঙ্গে চুক্তিও পাকা করলাম। ঠিক সেই সময় আরেকজন ক্রেতা এসে পুরো ২০,০০০ টাকা দিতে রাজি হলেন। তখন আমি দ্বিতীয় ক্রেতার কাছেই মাল বিক্রি করে দিলাম। এতে প্রথম ক্রেতা আমার সঙ্গে ঝগড়া শুরু করলেন। আমি তাঁকে বললাম, যদি ২০,০০০ টাকা দিতে পারেন, তাহলে আপনাকেই দেব। কিন্তু তিনি তা দিতে অস্বীকার করলেন। সৌভাগ্যবশত, আমি তাঁর কাছ থেকে কোনো অগ্রিম অর্থ নিইনি। আমি এটিকে বাপুরই কৃপা বলে মনে করি। তাঁর আশীর্বাদেই আমার ইচ্ছামতো ২০,০০০ টাকায় সেই মাল দ্বিতীয় ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে পেরেছিলাম। এটিই ছিল বাপুর কৃপায় প্রাপ্ত আমার প্রথম অভিজ্ঞতা।
এবার আমার দ্বিতীয় অভিজ্ঞতার কথা বলি।
পরের দিন খামগাঁওয়ে আমার মেয়ের সন্তানের নামকরণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল। আমি মুম্বাই থেকে সকাল ৮টার ট্রেনে রওনা দিলাম। ট্রেন যখন জলগাঁও স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল, তখন একজন লোক আমার স্যুটকেসটি তুলে নিয়ে নেমে চলে যেতে লাগল। ঠিক সেই সময় একজন রেলপুলিশ তাকে ধরে একটি চড় মারেন এবং স্যুটকেসটি উদ্ধার করেন। তারপর তিনি ব্যাগটি নিয়ে আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “এই ব্যাগটি কার?” ব্যাগটি দেখে আমি ঘেমে উঠলাম, কারণ তখনও বুঝতেই পারিনি যে আমার স্যুটকেস চুরি হয়ে গিয়েছিল। আজও আমি জানি না, রেলপুলিশ কীভাবে বুঝলেন যে ব্যাগটি আমারই ছিল। এরপর নামকরণ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করে আমি নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসি। আমি একে বাপুরই করুণাময় কৃপাদৃষ্টি বলে মনে করি।
এরপর আমি একটি STD, PCO ও জেরক্সের দোকান শুরু করি। কিছুদিন পর আমার ছেলে লক্ষ্মীকান্ত আরেকটি দোকান নেয়। দোকানটির নাম ছিল ‘হরি ওঁ কালেকশন’। দোকানের সাইনবোর্ডে সে বাপুর একটি ছবি লাগিয়েছিল। ধীরে ধীরে আমাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করল। আমাদের পরিবারের সকলেই ক্রমে বাপুর ভক্ত হয়ে উঠল। আমার দ্বিতীয় ছেলে একবার জুইনগর থেকে উদি এনে দিয়েছিল। তখন আমার মনে হচ্ছিল, আমাদের আশেপাশেও যদি কোথাও উদি পাওয়া যেত!
একদিন আমাদের দোকানের নাম দেখে এক বাপুভক্ত ফোন করতে এসেছিলেন। তিনি জানতে চাইলেন, আমরা কতদিন ধরে বাপুর সান্নিধ্যে আছি। তারপর তিনি আমাকে সেখানকার শনিবারের উপাসনায় আসার আমন্ত্রণ জানালেন এবং বললেন, সেখানে উদিও পাওয়া যাবে। শনিবার আমি রিকশায় করে উপাসনা কেন্দ্রে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরোলাম। কিন্তু কেন্দ্রটি কোথায়, তা আমার জানা ছিল না। তাই নির্দিষ্ট জায়গার আগেই নেমে পড়লাম। একটি দোকানে ঠিকানা জিজ্ঞেস করছি, এমন সময় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিজে থেকেই এগিয়ে এসে বললেন, তিনি আমাকে উপাসনা কেন্দ্রে পৌঁছে দেবেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, “আপনিও কি উপাসনায় যাচ্ছেন?” তিনি শুধু বললেন, “আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আমি চলে যাব।” উপাসনা কেন্দ্রে পৌঁছে দেখি, ‘জয় জয় রাম কৃষ্ণহরি’ ধ্বনির মধ্যে বাপুর পাদুকার আগমন হচ্ছে। আমি ভক্তিভরে দর্শন করে পাদুকার সামনে ৫ টাকা দক্ষিণা রাখলাম। তখন একজন সেবাকর্মী এসে সেই টাকা আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, কাউন্টারে নাম নথিভুক্ত করে দক্ষিণা জমা দিতে। উপাসনা শেষে উদি নেওয়ার সময় আমি একটু বেশি উদি চেয়েছিলাম। তাই কর্মীকে কিছু অর্থ দিতে চাইলে তিনি সস্নেহে জানালেন, “উদির জন্য কোনো অর্থ নেওয়া হয় না।” এই সমস্ত ঘটনা আমার হৃদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল। এরপর থেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আমি বাপুর গুণসংকীর্তন করতে শুরু করি। যাঁরা বাপুর ভক্ত হতে আগ্রহী, তাঁদের আমি উদি, কলম, বাপুর ছবি এবং রামনাম-খাতা উপহার দিই। তবে কাউকেই কখনো জোর করি না।
আমার বড় ছেলে আগে কাজকর্মে খুব একটা মন দিত না। সেই সময় আমার পুত্রবধূ সংসারের সব কাজ সামলাতে সামলাতেই আটটি রামনাম-খাতা পূর্ণ করেছিলেন। এরপর থেকেই আমার বড় ছেলে SGH কোল ডিপার্টমেন্টে নিয়মিত ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে শুরু করে। আজ সে সেখানেই একজন সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত।
আমার এক ছেলে HDFC ব্যাংকে চাকরি পেয়েছিল। কিন্তু সেখানে বেতন সন্তোষজনক না হওয়ায়, ২০০৯ সালে সে ওবেরয় হোটেলে ইন্টারভিউ দিয়ে দুবাইয়ে চাকরির জন্য চলে যায়। সেখানে যাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সে তার ছোট ভাই সচিনকে দুবাইয়ে ডেকে নিয়ে যায় এবং তাকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়। সেই একই বছরে আমার ছোট মেয়ে যোগিতার বিয়েও ঠিক হয়ে যায়। এক বছরের মধ্যেই আমাদের পরিবারে এই তিনটি শুভ ঘটনা ঘটে। তখন আমার মনে এই ভাব দৃঢ়ভাবে অনুভুত হয়েছিল যে, বাপুর বিশেষ কৃপা আমাদের সমগ্র পরিবারের ওপর বিরাজ করছে। একবার আমার মেয়ে এবং আমার দ্বিতীয় পুত্রবধূ রিকশায় করে মুলুন্ড যাচ্ছিলেন। পথে রিকশাচালক হঠাৎ সোনাপুর থেকে জঙ্গলের দিকে রিকশা ঘুরিয়ে দেয়। আমার মেয়ে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও অত্যন্ত বুদ্ধিমতী। সে রিকশাচালককে জিজ্ঞেস করল, “আপনি রিকশা কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?” রিকশাচালক তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিল। আমার মেয়ের সঙ্গে বাপুর একটি ছবি ছিল। সে আন্তরিকভাবে বাপুকে স্মরণ করল। ঠিক তখনই সামনে থেকে গোঁফওয়ালা এক ভদ্রলোককে আসতে দেখা গেল। সঙ্গে সঙ্গে আমার মেয়ে জোরে চিৎকার করে বলল, “রিকশা থামান!” রিকশাটি থামতেই সে সেই ভদ্রলোককে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল এবং সঙ্গে থাকার অনুরোধ করল। ভদ্রলোক রিকশায় উঠে বসলেন এবং চালককে নির্দেশ দিলেন, মেয়ের বলা গন্তব্যেই রিকশা নিয়ে যেতে। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর পর তিনি নেমে রিকশাচালককে ধমক দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন।
আমার দ্বিতীয় ছেলে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে একবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাকে K.E.M. হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমাদের জানিয়েছিলেন যে, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক এবং হয়তো সে পরদিন সকাল পর্যন্তও বাঁচবে না। কিন্তু সেই রাতেই আমার ছেলে স্বপ্নে বাপুর দর্শন লাভ করে। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে স্বাভাবিকভাবে চা-নাস্তা করল এবং আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ ছিল। তার এই আশ্চর্যজনক সুস্থতা দেখে হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলেন।
একবার আমার মেয়ে কালেক্টর অফিসে চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে নাগপুরে গিয়েছিল। সে সাক্ষাৎকারে উত্তীর্ণও হয়েছিল। কিন্তু পরে তাকে চাকরি দেওয়ার জন্য ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। সেই অর্থ দিতে না পারায় সে চাকরিটি পায়নি। এরপর আমার স্ত্রী বাপুর চরণে আন্তরিক প্রার্থনা করেন, যেন আমাদের মেয়ের একটি ভালো চাকরি হয়। তিনি মানত করেছিলেন যে, মেয়ের চাকরি হলে ভাণ্ডুপ উপাসনা কেন্দ্রে ১ কেজি পেড়া প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করবেন। তার কিছুদিন পর আমার মেয়ে মনীষা গোন্ডিয়াতে আরেকটি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যায়। সেখানে অফিসের কর্মীরা তাকে বলেছিলেন, “আপনি কেন এসেছেন? আপনার চাকরি হবে না।” কিন্তু বাপুর কৃপাশীর্বাদে কোনো ধরনের অর্থ বা ঘুষ না দিয়েই সে হাতে নিয়োগপত্র পেয়ে যায়। আজ সে মাসে ১৬,০০০ টাকা বেতন পায়। রাজস্ব বিভাগে কর্মরত অবস্থায় সে কখনো এক টাকাও ঘুষ নেয় না। বরং দরিদ্র ও বিধবা মহিলাদের পেনশনের আবেদন যত দ্রুত সম্ভব অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করে। আমার বিশ্বাস, বাপুই মনীষাকে এমন সৎবুদ্ধি ও ন্যায়নিষ্ঠার প্রেরণা দিয়ে চলেছেন।
একবার আমার ভাই আত্মারামের শরীর হঠাৎ খুব খারাপ হয়ে যায়। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর মেয়ে আমাকে ফোন করে ডেকে পাঠায়। আমি দাহানুতে গিয়ে দেখি, তিনি ঠিকমতো উঠতে-বসতে পারছেন না। নাভির কাছে তীব্র ব্যথা হচ্ছিল, এমনকি জল খেলেও বমি হয়ে যাচ্ছিল। তিনি বারবার বলছিলেন, “আমি আর বাঁচব না।”
আমি তাঁর শরীরে উদি লাগিয়ে দিলাম। তখন আমার মনে পড়ল, সুচিতদাদা বলতেন, কেউ অসুস্থ হলে হনুমান চালিসা এবং ঘোরকষ্টোদ্ধারণ স্তোত্র পাঠ করতে। সেই কথা স্মরণ করে আমি পাঠ শুরু করলাম। ধীরে ধীরে আমার ভাই কিছুটা স্বস্তি অনুভব করতে লাগলেন। তবে চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে K.E.M. হাসপাতালে নিয়ে যেতে বললেন। সেখানে একের পর এক তিনজন চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করেন। পরে একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক এসে তাঁর নাভির ওপর জোরে হাত বুলিয়ে পরীক্ষা করলেন। দেখা গেল, নাভির একটি শিরা বা পেশি স্থানচ্যুত হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকের স্পর্শে সেটি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এরপর আত্মারাম বললেন, তাঁর শৌচাগারে যেতে হবে। কিছুক্ষণ পর তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বললেন, “আমি হাঁটতে পারছি।” তারপর তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে হেঁটে বাইরে বেরিয়ে এলেন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবাই বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলেন। কোনো অতিরিক্ত চিকিৎসা খরচ ছাড়াই আত্মারাম সুস্থ হয়ে ওঠেন। লেখকের বিশ্বাস, এটি ছিল বাপুরই অসীম কৃপা ও করুণা।
আমার এক ছেলের যখন দুবাই যাওয়ার সুযোগ হয়, তখন সে তার পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ওরঙ্গাবাদে তাঁর বাবার বাড়িতে রেখে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, একটি জটিল শারীরিক প্রতিক্রিয়ার কারণে গর্ভের শিশুটি মারা যায়। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি উল্টো অবস্থায় (পা আগে) থাকায় অস্ত্রোপচার করতেই হবে। তাঁরা আরও বলেন, যদি অপারেশন করে শিশুটিকে বের করা না হয়, তবে মায়ের জীবনও বিপন্ন হতে পারে। আমি চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, “অস্ত্রোপচার ছাড়া কি শিশুটিকে বের করা সম্ভব নয়?” সেদিন রাতে চিকিৎসকেরা একটি ইনজেকশন আনতে বলেন, এবং সেটি আমার পুত্রবধূকে দেওয়া হয়। সারা রাত আমার পুত্রবধূ ভক্তিভরে হনুমান চালিসা এবং ঘোরকষ্টোদ্ধারণ স্তোত্র পাঠ করতে থাকেন। কিছু সময় পরে, আশ্চর্যজনকভাবে কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই মৃত শিশুটিকে বের করা সম্ভব হয় এবং আমার পুত্রবধূর প্রাণও রক্ষা পায়।
বাপুর প্রতি আমার অসীম অম্বজ্ঞ (কৃতজ্ঞতা)।
এ রকম অসংখ্য অভিজ্ঞতা আমার জীবনে রয়েছে। যতগুলো মনে পড়েছে, ততগুলোই এখানে লিখে রাখার চেষ্টা করেছি। বাপুর লীলা সত্যিই অপার, অনন্ত ও মানববুদ্ধির অতীত।
| Hindi | English |
|---|---|

Comments
Post a Comment