এই অভিজ্ঞতায় এক গর্ভবতী ভক্ত মহিলার পেটের সন্তানের হার্টে ব্লক ধরা পড়ে এবং বাড়ির সবাই ভীষণ ভেঙে পড়েন। কিন্তু তাঁদের তাঁদের সদগুরু - বাপুর ওপর অটল বিশ্বাস ছিল যে আমাদের বাপুই যা করার করবেন...আর এই বিশ্বাস সত্যিই সফল হয়....বাচ্চা তো সুস্থভাবে জন্মায়ই, তাছাড়াও...
আমার বোন মেঘনা পাওয়ারের বিয়ের ২ বছর হয়েছিল। এরপর ২০১৫ সালে ও প্রেগন্যান্ট হয়। ডক্টর উমেশ দাতের কাছে ওর ট্রিটমেন্ট চলছিল। ওর শ্বশুরবাড়ি খোপোলিতে। ও প্রতি মাসে চেকআপের জন্য ডোম্বিভলীতে আসত। সপ্তম মাস পর্যন্ত ওর সোনোগ্রাফির সব রিপোর্ট নর্মাল এসেছিল। ১২ জুন ওর শ্বশুরবাড়িতে সাধভক্ষণের (ওটি ভরণ) অনুষ্ঠান হয় আর আমরা ওকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি। १३ জুনে ওর সোনোগ্রাফি টেস্ট ছিল। তাতে ডক্টর পাতিল লক্ষ্য করেন যে বাচ্চার হার্টবিট কম আছে। উনি আমাদের রিপোর্টটা ডক্টর উমেশ দাতেকে দেখাতে বলেন। ডক্টর দাতে রিপোর্ট দেখে ওনাকেও চিন্তিত দেখাল, কারণ রিপোর্টে বাচ্চার হার্টে একটা ব্লক দেখা যাচ্ছিল। ডক্টর আমার মা আর বোনকে বাচ্চার এই সমস্যার কথা জানান। ওরা দুজনেই খুব ভয় পেয়ে যায়। ডক্টর থানে আল্ট্রাসাউন্ড সেন্টারে গিয়ে একটা বড় সোনোগ্রাফি করাতে বলেন। পরের দিন ওখানে গিয়ে করা সোনোগ্রাফিতেও একই সমস্যা দেখা গেল। ডক্টর দাতে সেই রিপোর্ট দেখে, মেঘনার ক্রিকাল কন্ডিশন হওয়ার কারণে ডেলিভারি জে.জে. অথবা কে.ই.এম. কিংবা ওয়াডিয়া হসপিটালে করানোর কথা বলে সেখানে ওর নাম রেজিস্টার করতে বললেন।
আমার মা, বোন দুজনেই কী করবেন কিছু বুঝতে পারছিলেন না। ওরা বাড়ি এসে বাবাকে সব জানাল। তারপর আমরা ওকে জে.জে. হসপিটালে নিয়ে গেলাম এবং ডক্টর আনন্দ প্রকাশের কাছে ওর ট্রিটমেন্ট শুরু হলো। ডক্টর ওকে তখনই অ্যাডমিট হতে বললেন। আরও একবার সোনোগ্রাফি করা হলো, তার রিপোর্টও একই এল। ডক্টর আনন্দ বললেন, বাচ্চা বাইরে না আসা পর্যন্ত আমরা কিছুই করতে পারব না। বাড়ির পুরো পরিবেশটাই বদলে গিয়েছিল। এখন আমাদের একমাত্র ভরসা ছিলেন বাপু। আমি মনে মনে বাপুকে শুধু বললাম, বাপুরায় (বাপু রাজা), সব এখন তোমারই হাতে। ওইটুকু জানের হার্টের ব্লকটা সারিয়ে দাও। আমি জানতাম আমার বাপ্পা সব ঠিক করে দেবেন! বোনকে ৮ দিন পর ডিসচার্জ দেওয়া হলো। বোন তো পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। আমরা সবাই ওকে সাহস দিচ্ছিলাম যে আমাদের বাপু আছেন না, তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবেই। আমাদের বাড়ির সবাই খুব টেনশনে থাকত।
সপ্তম মাস শেষ হওয়ার মুখে আবার একটা সোনোগ্রাফি করা হলে দেখা গেল বাচ্চার ব্লাড সার্কুলেশন কম হচ্ছে। তাই ডক্টর দাতে বললেন ডেলিভারি এখনই করতে হবে। বাচ্চার জীবনের ঝুঁকি থাকায় তখনই জে.জে. হসপিটালে নিয়ে যেতে বললেন। সেই রাতেই ৯টার সময় মা, বাবা আর বোনের বর ওকে জে.জে.-তে অ্যাডমিট করলেন। তখন আমি বাপুকে বললাম, বাপুরায়, এটা কী হচ্ছে, কেন একটার পর একটা সমস্যা আসছে? তুমি তো সব দেখছ না। সব ঠিক করে দাও বাবা। আমার বাপ্পা ১০৮% ছুটে আসবেনই, এই বলে আমি সবাইকে সাহস দিচ্ছিলাম। ডক্টর আনন্দ বোনের ট্রিটমেন্ট শুরু করলেন এবং পরীক্ষা শেষ হতেই উনি জানালেন, এখনই ডেলিভারির কোনো দরকার নেই। তবে উনি বোনকে আন্ডার অবজারভেশন রাখলেন। সেখানে ওর ঘনঘন সোনোগ্রাফি হতো। কখনো বাচ্চার হার্টবিট বেশি হতো, তো কখনো কম। ডক্টররাও অবাক হয়ে যেতেন।
আমার মা বোনের পেটে উদী (পবিত্র ছাই) লাগিয়ে দিতেন। মা সারাক্ষণ বাপুর সাথে কথা বলতেন, ঝগড়াও করতেন, কোথায় আছ বাপ্পা? আমার পাশে কেন নেই? আমি তো কখনো কারো খারাপ করিনি, তাহলে আমার মেয়ের ওপর কেন এত বড় বিপদ? আমি মাকে সাহস দিতাম, আমাদের বাপু আছেন আমাদের পাশে। উনি ১০৮% সব ঠিক করে দেবেন। বাচ্চা বাপুর কাছে সুরক্ষিত আছে। তখন ও একটু শান্ত হতো। বোনের যখন ৮ম মাস চলছিল, আমি একবার সুচিতদাদার ক্লিনিকে গিয়েছিলাম। তখন দাদার সাথে কথা বলতে বলতে আমার চোখে জল চলে এল। দাদা জিজ্ঞেস করলেন, কী হয়েছে সোনা? সব ঠিক করে বলো। আমি দাদাকে সব জানানোর পর দাদা বাপুরের ছবির দিকে তাকিয়ে বললেন, উনি বসে আছেন না, ওনার ওপর ছেড়ে দাও সব। রোজ হনুমান চালিশা পাঠ করা চালু রাখো।
...আর কী বলব, দাদার ওই ভরসা দেওয়া কথায় আমার সব চিন্তা কোথায় যেন উধাও হয়ে গেল। সেই মুহূর্তেই আমি নিশ্চিন্ত হয়ে বেরিয়ে এলাম। দাদার সাথে দেখা করে, কথা বলে একটা পজিটিভ এনার্জি পেলাম। তারপর বাড়িতে আমার পাঠ চলছিল আর বোনও হসপিটালে হনুমান চালিশা পড়ত। ৮ম মাস শেষ হওয়ার পর ডক্টররা ১৫ দিন পর অর্থাৎ ২৪ আগস্ট সিজার করার সিদ্ধান্ত নিলেন। বাড়ির সবাই সিজারের জন্য প্রস্তুত হলো। ডেলিভারির দিন মা মনে মনে বাপুকে বললেন, বাপ্পা, তোমাকে এখানে ডেলিভারির সময় আসতেই হবে। সব তোমার ওপর ছেড়েছি।
সোমবার ২৪ আগস্ট ২০১৫ তারিখে বোনের ডেলিভারি করা হলো। সকাল ১০.২৫ মিনিটে বাচ্চা জন্মাল, তাও একদম সুস্থভাবে! জন্মানোর পর বাচ্চা জোরে কেঁদে উঠল। কিন্তু ডক্টর বললেন চিন্তার কোনো কারণ নেই। বাচ্চা একদম ঠিক আছে। ছেলে হয়েছে। ...সবচেয়ে বড় কথা, জন্মানোর পরপরই ডক্টররা বাচ্চার ইকো টেস্ট করলেন। তাতে দেখেন তো, কোনো ব্লকই নেই! ডক্টররাও অবাক হয়ে গেলেন। সেই সদগুরুতত্ত্ব আমাদের প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছিলেন এবং বাচ্চার হার্টের ব্লক আগেই দূর করে দিয়েছিলেন। ঈশ্বর ওকে এত শক্তি দিয়েছেন, আর আশ্চর্যের বিষয় হলো ওর কপালে অষ্টগন্ধের তিলকের মতো একটা দাগ আছে। বাপুরের কৃপায় বাচ্চা এখন ৫ মাসের হয়েছে। বাপুরায়, বাচ্চাকে অনেক আশীর্বাদ আর দীর্ঘায়ু দাও। তোমার কৃপাদৃষ্টি যেন আমাদের সবার ওপর এভাবেই থাকে। তোমার দেওয়া এই নাম যেন বাচ্চার কপালে এভাবেই থেকে যায়।
বাপু, তোমারই তো বাণী আছে না রে -
মজসবে জো প্রেমে ঈঈল | তয়াচে অশক্য শক্য মী করীন |
(যে আমার সাথে প্রেমে আসবে, তার অসম্ভবকে আমি সম্ভব করব)
আর কী চাই রে বাপু! তোমার চরণে স্থান দাও।
----------------------
| Hindi | English |
|---|---|

Comments
Post a Comment