ওয়েটিং লিস্টের টিকিট মাত্র ১০ মিনিটে কনফার্ম! - প্রমোদসিংহ তাডস, ওয়ার্ধা

ওয়েটিং লিস্টের টিকিট মাত্র ১০ মিনিটে কনফার্ম! - প্রমোদসিংহ তাডস, ওয়ার্ধা

হিন্দিতে একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ আছে, 

“ভগবান দেতা হ্যায় তো ছপ্পর ফাড় কে দেতা হ্যায়।” (ভগবান যখন দেন, তখন ছাদ ফুঁড়ে দেন।) এই শ্রদ্ধাবানও জীবনে বহুবার সেই কথার সত্যতা অনুভব করেছেন, এ কথা বললেও অত্যুক্তি হবে না। তিনি তাঁর এই অনুভবে যা বর্ণনা করেছেন, তা সত্যিই একেবারে অকাট্য সত্য।

২০১২ সাল থেকে আমরা সদ্গুরু অনিরুদ্ধ বাপুর উপাসনায় যুক্ত হয়েছি। আমাদের এলাকার বাপুভক্ত শ্রদ্ধাবান শৈলজাবীরার অনুপ্রেরণায় আমরা ওয়ার্ধার অনিরুদ্ধ উপাসনা কেন্দ্রে যেতে শুরু করি। এই তিন বছরে বাপু আমাকে এবং আমার স্ত্রী সৌ. সুবর্ণাবীরাকে অসংখ্য ছোট-বড় কৃপাময় অভিজ্ঞতার সাক্ষী করেছেন। তারই মধ্যে একটি অভিজ্ঞতা এখানে তুলে ধরছি...

বাপুর সেবায় যুক্ত হওয়ার পর আমাদের প্রায়ই মুম্বাইয়ের খারে অবস্থিত গুরুক্ষেত্রম এবং ড. সুচিতদাদার ক্লিনিকে যাওয়ার সুযোগ হতো। কখনও আমরা দু'জনে একাই যেতাম, আবার কখনও উপাসনা কেন্দ্রের অন্যান্য বাপুভক্তরাও আমাদের সঙ্গে থাকতেন। এমনই একবার আমি, আমার স্ত্রী এবং উপাসনা কেন্দ্রের বাপুভক্ত নীলিমাবীরা ও তাঁর কন্যা, আমরা চারজন গুরুক্ষেত্রমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। দিন তারিখও ঠিক হয়ে গেল। সেদিন সন্ধ্যার বিদর্ভ এক্সপ্রেসে আমাদের রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের কারও টিকিটই কনফার্ম ছিল না। হাতে মাত্র এক সপ্তাহ সময়, তার মধ্যে টিকিট কনফার্ম হবে, এমন কোনও নিশ্চয়তাও ছিল না। অন্তত একটি টিকিট কনফার্ম হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।

আমাদের কাছে বিষয়টি তখন একেবারেই অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু সেদিন যে আমাদের গুরুক্ষেত্রমে উপস্থিত হওয়াই সদ্গুরুতত্ত্বের ইচ্ছা ছিল, তা আমরা পরে উপলব্ধি করলাম। 'আলে দেবা জীচ্যা মনা, তেথে কোণাচে চালে না!' (সত্যিই, ভগবানের ইচ্ছা হলে তাঁর ইচ্ছার সামনে কারও কিছুই করার থাকে না)। সেই দিব্য সত্যেরই প্রত্যক্ষ অনুভূতি আমরা লাভ করেছিলাম।

যাওয়ার দিন এসে গেল। সকালে অনেক আশা নিয়ে মোবাইলে দেখলাম টিকিট কনফার্ম হয়েছে কি না। কিন্তু দেখা গেল, এখনও ৫০ নম্বর ওয়েটিং। আমার স্ত্রী আগেই বলেছিলেন, "টিকিট কনফার্ম হলেই রিজার্ভেশন রাখব।" বারবার ইন্টারনেটে চেক করেও ওয়েটিং নম্বর ৪০–৪৫-এর নিচে নামছিল না। দুপুর গড়িয়ে বিকেল চারটা বেজে গেল। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় হয়ে এসেছে। মাথার মধ্যে তখন একের পর এক চিন্তার ঝড়, এখন কী করা যায়? এদিকে সারাদিনই নীলিমাবীরার ফোন আসছিল। টিকিট কনফার্ম না হওয়ায় তাঁর উদ্বেগও ক্রমশ বাড়ছিল। অবশেষে শৈলজাবীরাকে ফোন করে সব কথা জানালাম। তিনি আমাদের সাহস দিয়ে বললেন, "সবকিছু বাপুর ওপর ছেড়ে দিন। তিনি আপনাদের সঙ্গেই আছেন। যা করার, তিনিই করবেন।" তাঁর এই কথায় কিছুক্ষণের জন্য আমাদের মনটা নিশ্চিন্ত হয়ে গেল। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা যতই এগোচ্ছিল, ততই বুকের ধুকপুকানি বাড়ছিল। আমার স্ত্রী বললেন, "ওয়ার্ধা স্টেশনে গিয়ে রিজার্ভেশনটা বাতিল করে এসো।" আমারও তখন আর কিছুই মাথায় আসছিল না। অন্য কোনো উপায় না দেখে বাপুর নাম স্মরণ করলাম, আর শেষ পর্যন্ত রিজার্ভেশন বাতিল করার উদ্দেশ্যে স্টেশনের দিকে রওনা দিলাম।

...ঠিক সেই সময় ফোনটা বেজে উঠল। আমার স্ত্রী ফোনটি ধরলেন। ওপার থেকে নীলিমাবীরার কণ্ঠ ভেসে এল, "আপনাদের টিকিটগুলো কনফার্ম হয়ে গেছে!"

এই খবর শুনে আমাদের আনন্দ আর ধরে না। ধন্য বাপু! মাত্র দশ মিনিট আগেও যেখানে ওয়েটিং নম্বর ছিল ৪৫, আর আমি বাপুর নাম স্মরণ করে রিজার্ভেশন বাতিল করতে বেরিয়ে পড়েছিলাম, ঠিক সেই সময়ই অলৌকিকভাবে আমাদের টিকিটগুলো কনফার্ম হয়ে গেল! এ তো আমার সদ্গুরুরায়ারই  অপরিসীম কৃপা!


Hindi English



Comments