এখানে দীর্ঘদিন ধরে থাকতেন বিভিন্ন বেশে ঘোরাফেরা করা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দুটি দল - একটি হল আত্মগোপন করা স্বাধীনতা সংগ্রামীরা এবং অন্যটি বিপ্লবীরা। ভোঁয়রার বা ঐ ভূগর্ভস্থ কক্ষে অনেক গোপন আলমারি ছিল ও তাকে বেশ পরিবর্তন করার জন্য সব ধরনের সরঞ্জাম রাখা থাকত। ভারতের প্রতিটি প্রদেশের পোশাক, বিভিন্ন সাইজের এখানে সবসময় পাওয়া যেত।
আজ আসার সঙ্গে সঙ্গেই মল্লাররাও মন্দির ভালোভাবে দর্শন করে, দ্রুত ভোঁয়রাতে বা ভূগর্ভস্থ কক্ষে গেলেন। এমন যখন দিনের বেলা করতে হত, তখন পূজারীরা, তেল পড়ে গেল, ছাই উড়ল, গবাক্ষ দিয়ে পাখি ভেতরে ঢুকে গেল, টিকটিকি পাওয়া গেল এমন সব কারণ দেখিয়ে গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ করে দিতেন। রাতের বেলাতে তো কোনো সমস্যাই থাকত না।
মল্লাররাও ভোঁয়রাতে বা ভূগর্ভস্থ কক্ষে নামলেন এবং সরাসরি সেখানকার মোট 19টি কক্ষের মধ্যে 13 নম্বর কক্ষে গেলেন। প্রতিটি কক্ষের দরজায় নম্বর খোদাই করা ছিল। 'কক্ষের সংখ্যা ছিল 19টি', এমনটাই যে কোনো দর্শকের মনে হত; কিন্তু একই নম্বরের তিন-চারটি কক্ষও ছিল এবং একটি কক্ষের দেওয়াল থেকে খোলার মতো আরও একটি গুপ্ত কক্ষও থাকত।
এই ধরনের সব জটিল স্থাপত্য-রচনার নির্মাণ বিশেষজ্ঞ 'শিবরামরাজন' আজ তিন বছর পর প্রথমবার এখানে এসেছিলেন। সেটাও আগে থেকে জানিয়ে, উত্তর ভারতীয় হিন্দুস্থানী বেশ নিয়ে এবং গ্রামের বাইরের হনুমান মন্দির থেকে আসা গুপ্ত পথ দিয়েই।
ফকীরবাবা অর্থাৎ শিবরামরাজনে-র মুখ এক মুহূর্তে উগ্র হয়ে উঠল। তাঁর চোখের রাগ ছিল যেন জ্বলন্ত অঙ্গারের মতো। তিনি কোনওমতে নিজেকে সামলে নিয়ে কথা বলতে শুরু করলেন, “মল্লাররাও! সমস্ত বিপ্লবীদের বিশ্বাসঘাতকতা তাঁদের আশপাশের ভারতীয় মানুষেরাই করছে। আজ পর্যন্ত ধরা পড়া বিপ্লবীদের মধ্যে 99% এর ক্ষেত্রে এটাই ঘটেছে। কখনও প্রতিবেশী, কখনও ব্রিটিশদের ভারতীয় গুপ্তচর, কখনও সরকার ঘোষিত পুরস্কারে লোভে পড়া মানুষ এবং কিছু জায়গায় তো প্রথমে আন্দোলনে থাকা, পরে সরে যাওয়া ভীরু যুবকেরাই।
কত ভারতীয়র রক্ত বইছে এবং আর কত দিন বইতে থাকবে? এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকদের শিক্ষা দেওয়াটা আমার কাছে আরও বেশি জরুরি বলে মনে হচ্ছে।”
মল্লাররাও এক মুহূর্তও দেরি না করে বললেন, “হ্যাঁ। কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করলে তাঁকে ব্রিটিশ সরকার থেকে সমস্ত সুবিধা দেওয়া হয়। এমন লোকদের শাস্তি তাহলে কে দেবে? আজ পর্যন্ত আমরা বিপ্লবীদের এবং আত্মগোপন করা স্বাধীনতা সেনানিদের সাহায্য করার কাজ করছিলাম। কিন্তু কোনো বৈপ্লবিক কাজে অর্থাৎ সশস্ত্র সংগ্রামে এবং গেরিলা যুদ্ধে (Guerilla Warfare) সরাসরি অংশগ্রহণ করিনি।
রামচন্দ্রের সাথে আমার পরশুদিনই কথা হয়েছে। এখন শুধু সমর্থন দিয়ে বা সাহায্য করে বা বিপ্লবীদের অস্ত্র সরবরাহ করে চলবে না। আমাদের সম্পূর্ণ দলের বৈপ্লবিক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া আবশ্যক এবং রামচন্দ্র পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে।
দুই মাস আগে ভগত সিংয়ের বলিদানের পর তো সারা দেশের মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে (মার্চ 23, 1931)। আর দেরি করা চলবে না। 'ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস'-এর বাংলা থেকে আসা নেতা 'সুভাষচন্দ্র বোস'-এর সাথে অচিরেই যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি বিপ্লবী চিন্তাধারার, তরুণ এবং তেজস্বী একজন মানুষ। ভেতর থেকে সম্পূর্ণ বিপ্লবী হয়েও তিনি গান্ধীজীর পথ গ্রহণ করেছেন, তা হল বিশাল ও ব্যাপক স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য।
জাল বুনার কাজ ও বিশ্বাসঘাতকদের শিক্ষা দেওয়ার কাজও আমরাই করি। সেই সব বিশ্বাসঘাতকদের মাথা কেটে নেওয়া উচিত।”
“কমপক্ষে এই বিশ্বাসঘাতকদের সমাজে জীবনধারণ করা কঠিন, অপমানজনক ও কষ্টকর হওয়া উচিত। আর এই কাজে আমরা নারীদের আগে এগিয়ে রাখব।” এই উক্তিটি ছিল জানকীবাইয়ের। সে গুপ্ত দরজা দিয়ে ভেতরে আসতে আসতে খুব স্বাভাবিকভাবেই বলে গিয়েছিল, কিন্তু তার চেহারায় সংকল্প ছিল অত্যন্ত কঠোর।
(গল্পটি চলছে)
मराठी >> हिंदी >> English >> ગુજરાતી>> ಕನ್ನಡ>> తెలుగు>> தமிழ்>> മലയാളം>>
.jpg)
.jpg)
.jpg)

.jpg)
.jpg)
.jpg)
Comments
Post a Comment